
গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ, অন্যায় ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান।
সফরসঙ্গী শিল্পী ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়ার পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বললেন তিনি।
৩৫ বছর বয়সী শিরান এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের সাথে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি এ সিদ্ধান্তের জন্য সফরের আয়োজক বা প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেন।
শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্ট শুরু করার সময় শিরান বলেন, ‘গাজায় যা ঘটছে, তা ভয়াবহ, অন্যায্য এবং অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত।’
ম্যাকলমোরকে ঘিরে বিতর্কের পর এটিই ছিল শিরানের প্রথম কনসার্ট। চলতি মাসে নিউ জার্সিতে একটি কনসার্টে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেয়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এরপর ভবিষ্যতে ‘লুপ ট্যুর’-এর যেসব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর মালিকদের পক্ষ থেকে তার বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়।
এরপর শিরানের সফরের চারজন সহযোগী শিল্পী সফর থেকে সরে দাঁড়ান। তারা প্রকাশ্য বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কথা জানান।
কনসার্টে আবেগাপ্লুত শিরান দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং নিতে হয়েছে ভুল সিদ্ধান্তও। এ জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।’
তার এ বক্তব্যের পর দর্শকেরা করতালি ও উল্লাসে সাড়া দেন।
ম্যাকলমোরকে সমর্থন না করায় সমালোচকেরা শিরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী রবার্ট ক্রাফটের নেতৃত্বে স্টেডিয়াম মালিকদের চাপের মুখে ম্যাকলমোরকে সমর্থন করেননি শিরান। এ ঘটনায় শিরানের অনুষ্ঠান বর্জনের ডাকও দেয়া হয়।
শনিবার কনসার্টের আগে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডের বাইরে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তাদের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা ছিল এবং তারা ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে স্লোগান দেন।
প্রায় এক ডজন পুলিশ গাড়িতে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে শান্তিপূর্ণ ওই সমাবেশের ওপর নজর রাখেন।
স্টেডিয়ামে আসা কয়েকজন দর্শক বলেন, বিতর্কের কারণে তারা কনসার্টে আসবেন কি-না, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা কনসার্টে এসে গান উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ১৮ বছর বয়সী ব্রাউন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ব্র্যান্ডন আতেকে কনসার্টে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তার অভিযোগ, ম্যাকলমোরকে নীরব করার ঘটনায় ক্রাফট ও অন্যদের সাথে শিরানও ‘জড়িত’।
তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘গাজায় চলমান গণহত্যার বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে আমি কনসার্টে না গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এর আগে, গাজা ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক শিল্পী প্রকাশ্যে কথা বললেও শিরান এতদিন রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া থেকে বিরত ছিলেন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ সংঘাত নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। আমি প্রকাশ্যে কথা না বললেই যে আমার কোনো মতামত নেই, তা নয়।’
শিরান আরো বলেন, ‘আমার অনুষ্ঠানে যারা আসেন, তারা কোনো রাজনৈতিক ফোরামে অংশ নিতে আসেন না।’
এদিকে শনিবার ফিলিস্তিনপন্থী একটি সংগঠন শিল্পী, দর্শক ও কনসার্টের কর্মীদের শিরানের কনসার্ট এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন ক্যাম্পেইন ফর দ্য অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড কালচারাল বয়কট অব ইসরাইল (পিএসিবিআই) এক বিবৃতিতে শিরানের পুরো বিশ্ব সফর বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে আসন্ন লাতিন আমেরিকা সফর এবং এখনো ঘোষণা না করা ইউরোপ সফরও রয়েছে।
শনিবারের কনসার্টে শিরান একাই মঞ্চে ওঠেন। কোনো উদ্বোধনী বা সহশিল্পী তার সাথে ছিলেন না।
সফর থেকে সরে দাঁড়ানোদের মধ্যে শিরানের ব্যাকিং ব্যান্ডের সদস্যরাও রয়েছেন। এছাড়া গায়ক ও সংগীতশিল্পী ফিনিয়াসও সফর ছেড়ে দিয়েছেন। ফিনিয়াস তার পপ তারকা বোন বিলি আইলিশের সাথে কাজ করে পরিচিতি পান।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে প্রশ্নটি বিনোদন অঙ্গনেও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই মাসে হামাসের হামলার পর ইসরাইল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
অস্কার ও এমিসহ বিভিন্ন সংগীত পুরস্কার অনুষ্ঠান এবং ইউরোপের চলচ্চিত্র উৎসবেও গাজা যুদ্ধের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়টি হামাস নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসঙ্ঘ এর প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
শনিবার গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর সর্বশেষ গোলাবর্ষণে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রয়েছে।
সূত্র : বাসস







