ড্র করে বিদায় নারী ফুটবল দলের
মিয়ানমারের সীমানায় শট নিচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা : বাফুফে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক
জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে। অথচ মিয়ানমারের বিপক্ষে সেই পরম কাক্সিক্ষত ও ইতিহাস গড়া জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। উল্টো গোল শূন্য ড্র করে ‘বি’  গ্রুপের তলানিতে থেকেই আসর শেষ করতে হলো মারিয়া মান্দাদের। বাংলাদেশের মতো হতাশায় পুড়তে হলো মিয়ানমারকেও। তারাও পারেনি পরের রাউন্ডে যেতে। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে বাদ পড়তে হলো তাদের। অথচ তাদের মতোই ১ পয়েন্ট নিয়েও ভিয়েতনাম গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। তারা কাল ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ড্র করেছে থাইল্যান্ডের সাথে।  আর ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে হংকংকে হারিয়ে নকআউটে গেছে ফিলিপাইন।  উল্লেখ্য, তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুইয়ে থেকে পরের রাউন্ডে গেল ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন। আর বাংলাদেশ বেশি গোল হজমের জেরেই ছিটকে গেছে। অর্থাৎ জিততে না পারার কস্টে বুক চাপড়াতে হচ্ছে এখন নারী দলকে।
আগের দুই ম্যাচেই বড় হার। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ০-৬ গোলে হার। দুই বাজে হারই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এবারের এশিয়ান গেমসে মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা মণিকাদের আশা কমিয়ে দেয়। এর পরও ইতিহাস গড়ে এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার ক্ষীণ আশা জিইয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না পিটার জেমস বাটলারের দলের। কিন্তু গতকাল জাপানের ওসাকায় মিয়ানমারের বিপক্ষে সেই কাক্সিক্ষত জয় আসেনি। ড্রতে বাংলাদেশ ও মিয়ারমারের পয়েন্ট সমান হলেও এতে অবশ্য গ্রুপের তলানি থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়নি লাল-সবুজদের। মিয়ানমার হয়েছে তৃতীয়। আর বাংলাদেশের অবস্থান চার নম্বরে। সাবেক সাফ চ্যাম্পিয়নরা ১৬ গোল হজম করে কোনো গোলই দিতে পারেনি। অন্যদিকে মিয়ানমার ১৩ গোল খেয়েও কোনো গোল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। গত এশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশ নেপালের সাথে ১-১-এ ড্র করেছিল। এবার তারা একটি গোলও করতে পারেনি।
এই মিয়ানমারকে গত বছর তাদের মাঠে হারিয়েই নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেই আলোকেই গতকাল প্রতিবেশী এই দলটির বিপক্ষে জয়ের আশা করেছিল সবাই। কোচ পিটার বাটলারও জানিয়েছিলেন তার মূল লক্ষ্যই এই ম্যাচে জয়। তবে জয়ের সেই কাজটি করতে পারেননি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। 
ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে মিয়ানমার। তাদের অবস্থান ৫৫তে। সেখানে সাফের দেশটির অবস্থান ১০৭-এ। সেই হিসেবে এই ড্র অবশ্যই প্রশংসায় ভাসাবে ঢাকা থেকে যাওয়া দলটিকে। কিন্তু যে দলের বিপক্ষে আগের মোকাবেলায় জয়ের সুখ স্মৃতি তাদের বিপক্ষে এবার জিততে না পারাটা অবশ্যই ব্যর্থতা। বিশেষ করে আগের দুই ম্যাচে বাজে হারের ক্ষত শুকানোর জন্য এই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দরকার ছিল।
বাংলাদেশের মতোই প্রেক্ষাপট ছিল মিয়ানমারের জন্য। তাদেরও জয়ের বিকল্প ছিল না নক আউটে যাওয়ার জন্য। তাই তারাও শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। তবে ফের পোস্টের নিচে আত্মবিশ্বাসী রুপে দাঁড়ান রুপনা চাকমা। তার প্রতিরোধেই ম্যাচের দুই মিনিট বয়সে রক্ষা। প্রতিপক্ষের আরো দু’টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর বাংলাদেশকো গোলের সুযোগ পায়। ১৯ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের ফ্রি-কিক লক্ষ্য ভ্রষ্ট হওয়ার পর ২৭ মিনিটে কর্নার থেকেও গোলের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ৪০ মিনিটে ঋতুপর্ণা শটও জালের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্যতে শেষ প্রথমার্ধ।
বিরতির পরও দুই দল গোলের নেশায় থাকে। তবে বল আর জালের দেখা পায়নি। ৭৭ মিনিটে ফের নিজ দলকে রক্ষা করেন রুপনা চাকমা। ৮৫ মিনিটে ঋতুপর্ণার শট বিপক্ষ রক্ষন প্রাচীরে বাধা প্রাপ্ত হওয়াটা ছিল বাংলাদেশ দলের শেষ আক্রমণ। বাকি সময়ে জয়ের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টাই করে মিয়ানমার। তবে আফঈদা খন্দকার প্রান্তির নেতৃত্বে রক্ষণভাগ অটুট থাকায় শেষ পর্যন্ত গতবারের মতোই ১ পয়েন্টের সন্তুষ্টি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করা।
ম্যাচ শেষে কোচ বাটলার জানান, ‘আমি দলের খেলায় গর্বিত। আমাদের দল এই আসরে সবচেয়ে পেছনে র‌্যাংকিংয়ে। একই সাথে এই দল আসরের সবচেয়ে কম বয়সী দল। এর পরও হাই র‌্যাংকিং দলের বিপক্ষে আমরা এই ম্যাচে ভালো খেলেছি।’
অথচ কোচ বাটলার যদি প্রথম ম্যাচে একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করতেন তাহলে এত বাজে হার হতো না। তাহলে হয়তো দলও কোয়ালিফাই করত। এই ব্যর্থতার পুরো দায় এই ব্রিটিশের।

Advertisement