নির্বাচন কমিশন অভিমুখে মিছিলে বাধা : দিল্লির রাজপথে অর্থমন্ত্রীর স্বামীসহ বিশিষ্টজনরা

 নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকার ‘বিশেষ তীব্র সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানী দিল্লিতে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে আয়োজিত এই প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। বাংলা সাহিব গুরুদ্বারা থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে নাগরিক সমাজ, শিক্ষার্থী এবং বিরোধী নেতারা অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সিপিআই (এম) নেত্রী বৃন্দা কারাত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুরো এলাকায় সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিএপিএফ) মোতায়েন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এর বাইরে কেরালার বাম ছাত্রসংগঠনগুলো এবং পাঞ্জাব বিধানসভাতেও সিইসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এসআইআর ও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ মঞ্চে যোগ দিচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের স্বামী ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পারকালা প্রভাকর। ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ জোটের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তার সাথে অভিনেতা প্রকাশ রাজ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত এবং লেখক তুষার গান্ধীরও অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কঠোর সমালোচক প্রভাকর এর আগেও বেঙ্গালুরুর একটি প্রতিবাদ সমাবেশে যুক্ত হয়েছিলেন। এ দিকে নির্বাচন কমিশনের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আইটি প্রোটোকল-সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রাইট টু ইনফরমেশন (আরটিআই) বা তথ্য অধিকার আইনে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সান্ধু ও বিবেক যোশীর লেখা চিঠি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দফতরে ফেরত পাঠিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চিঠি দু’টির বিষয়ে সিইসির মতামত চাইলেও, পরদিন জানানো হয় যে, কমিশনাররা ব্যক্তিগতভাবে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন এবং তা ইসিআইয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ নয়।
এর আগে গত ২৯ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো ওই গোপনীয় চিঠিতে কমিশনাররা অভিযোগ করেছিলেন যে, তথ্যপ্রতযুক্তি বিভাগের ফাইল পাঠানোর পদ্ধতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনীশ গর্গ কমিশনারদের সাথে আলোচনা না করেই কাজের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই আইটি প্রোটোকল ও পদ্ধতির কারণে ভোটার তালিকার তথ্যভাণ্ডারে নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের (ইআরও) প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে পড়েছিল। তবে কমিশন এই দ্বিমত ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, সব সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই গৃহীত হয়।