টঙ্গীতে মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ১৭ লাখ টাকা লুট
টঙ্গীর ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অধ্যক্ষের কক্ষ : নয়া দিগন্ত।

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

Advertisement

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে কথিত যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি মাদরাসায় হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত দুই শিক্ষক ও একজন কর্মচারী। গতকাল বুধবার পৌনে ১২ টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মধ্য আউচপাড়ার এসএস অ্যাকাডেমি রোডে অবস্থিত ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা’য় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুলিশ কথিত যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে। একই সাথে মাদরাসা ভাঙচুর ও লুটপাট তথা মব সৃষ্টির পৃথক অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ক্বারী আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর অভিযোগ, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে শাহাজালাল রুমি নামের এক অভিভাবকের নেতৃত্বে অন্তত ১৫ জনের একটি দল মাদরাসা ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে এক শিক্ষকের খোঁজ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে টেবিলের গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে তারা শিক্ষক মোসলিম উদ্দিনকে পেয়ে ভারী স্ট্যাপলার দিয়ে তার মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে নির্মমভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে লাঞ্ছিত করা হয়।
অধ্যক্ষ আরো জানান, শিক্ষক মোসলিমকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারধর করা হয়। এ সময় নারী শিক্ষকদের শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয় বলেও দাবি করেন তিনি। হামলায় নিরাপত্তা প্রহরী দেলোয়ারও গুরুতর আহত হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তাণ্ডব চালানোর সময় কার্যালয়ের ড্রয়ারে রক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নগদ ১৭ লাখ টাকা এবং পাঁচটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজে হামলার পুরো ঘটনার চিত্র ধারণ করা আছে বলে নিশ্চিত করেছেন অধ্যক্ষ।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন গাজীপুরী বলেন, ‘অভিভাবক রুমি আমার কাছে এসে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই হঠাৎ চড়াও হন। কোনো ঘটনা ঘটলে আগে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানালে আমরা তদন্তসাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারতাম। সামনে মাদরাসার নতুন শিক্ষা বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুৎসা রটাচ্ছে।
অন্য দিকে অভিযুক্ত অভিভাবক শাহাজালাল রুমি লুটপাটের কথা অস্বীকার করে উল্টো শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ওই মাদরাসার প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। গত ১৯ অক্টোবর শিক্ষক মোসলিম উদ্দিন আমার মেয়েকে অসৎ উদ্দেশ্যে চুমু দেয়। ঘটনাটি জানতে পেরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ‘শিক্ষার্থীর অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। অপর দিকে মাদরাসায় অনুপ্রবেশ, ভাঙচুর, লুটপাট ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনা দু’টিরই গুরুত্বের সাথে নিরপেক্ষ তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’