সীতাকুণ্ডে যুুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

Advertisement

চট্্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুবৃত্তদের গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক শিশু এবং নোয়াখালীর সেনবাগে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সীতাকুণ্ডে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পী (২৭) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তাফসির আলম শাওন (২৩) নামে আরো এক যুবদল কর্মী। শুক্রবার রাত ১২টার সময় উপজেলার বাড়বকুণ্ড অলিনগর এলাকায় যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাপ্পী বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক সাদ্দামের অনুসারী বলে জানা গেছে। 
এলাকায় প্রভাব বিস্তারে প্রতিপক্ষের হামলায় এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রশাসন ধারণা করছেন।  
নিহত বাপ্পি সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার বাসিন্দা কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আহত শাওন একই এলাকার ইউসুফের ছেলে।
যুবদল নেতা সাদ্দামের অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫/২০ জনের একদল যুবক সাদ্দামের অফিসের সামনে বাপ্পি ও শাওনকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। এ সময় তারা নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
বাপ্পির ভাই রহিম খান বাবু জানান, দুর্বৃত্তরা তার ভাই বাপ্পি ও শাওনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ দু’জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। শাওন হাসপাতালের আইসিইউ চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে জানান রহিম খান।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক নুরুল আলম আশেক জানান, গভীর রাতে স্বজনরা গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অন্য যুবক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। 
যুবদল নেতা সাদ্দামের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানান।
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে নিখোঁজের ৫০ ঘণ্টা পর বাড়িসংলগ্ন খাল থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু রায়হানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ৯টার দিকে কচুরিপানার নিচে বাজারের কাপড়ের ব্যাগে ভরা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির আপন খালু আল-আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে শিশুটির বাড়িসংলগ্ন খালের একটি স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে নিচে একটি কাপড়ের ব্যাগে শিশুটির লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির খালু আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নিকটাত্মীয়ের সম্পৃতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন শিশুটির মা-বাবা ও স্থানীয়রা। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার রাতে আল-আমিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরো তিন থেকে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শিশুটির মা রুমানা।
উল্লেখ্য, গত  বৃহস্পতিবার ভোরে বসতঘরে বাবার সাথে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয় শিশু রায়হান। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রায়হান ওই গ্রামের রাসেল খানের ছেলে।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাসেল খান তার শিশুসন্তানকে নিয়ে বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী রুমানা বেগম ঘরের বাইরে ঝাড়– দেয়া, মোছা ও পিঁড়া লেপার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে সন্তনকে দেখতে না পেয়ে তিনি স্বামী রাসেলকে ডেকে জাগিয়ে তোলেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্তানকে না পেয়ে পুকুরে সেচ দেয়া হয় এবং এলাকাজুড়ে মাইকিং করা হয়। তবু শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে থানায় খবর দেয়া হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
সেনবাগ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগে আফরিয়া সুলতানা প্রিয়া (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সেনবাগের নবগঠিত ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শায়েস্তানগর গ্রামের হাজী এমরাত আলী মিঞা বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত প্রিয়া ওই বাড়ির মো: আবুল কাশেম ড্রাইভারের মেয়ে। সে স্থানীয় শিবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে প্রিয়া তার মায়ের কাছে বিরানি খাওয়ার বায়না ধরে। মেয়ের আবদার পূরণ করতে বিকেল ৪টার দিকে তার মা বিলকিস আক্তার ছোট ছেলেকে নিয়ে স্থানীয় ছমির মুন্সির হাট বাজারে যান। সেখান থেকে বিরানি রান্নার উপকরণ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়িতে ফিরে বসত ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে অনেক ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে মই দিয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সেনবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হযরত আলী মিলন।