
মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স থেকে
বিশ্বের অটোমোবাইল শিল্পে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে বাজারে রাজত্ব করা ইউরোপীয় নির্মাতারা এখন চীনা কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী প্রতিযোগিতার মুখে অস্তিত্ব রক্ষার চাপে পড়েছে। এই উত্তাপের আবহেই গত সোমবার ফ্রান্সের প্যারিসে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের বিশ্ব গাড়ি প্রদর্শনী (প্যারিস অটো শো)। উদ্বোধনী দিনে উপস্থিত হয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো, সাশ্রয়ী ইভি তৈরি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ৩৮টি প্রধান ব্র্যান্ডের মধ্যে ২১টিই চীনে প্রতিষ্ঠিত কিংবা চীনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। ইউরোপীয় ব্র্যান্ড রয়েছে ১৭টি। চীনা আধিপত্য ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাটারি প্রযুক্তিতে ব্যাপক অগ্রগতি, বিশাল উৎপাদনক্ষমতা এবং কম খরচে দ্রুত নতুন মডেল বাজারে আনার কারণে ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চীনা বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়িগুলো।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং আধুনিক ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ সংযোজন ইউরোপেই ধরে রাখার আহ্বান জানান। তবে কেবল আমদানিতে শুল্ক বা বিধিনিষেধ চাপিয়ে ইইউ সমাধান পাবে না- কম খরচে মানসম্পন্ন গাড়ি উপহার দেয়াই এখন ইউরোপের মূল চ্যালেঞ্জ।
চাপের মুখে ইউরোপীয় জায়ান্টরাও নিজেদের নতুন প্রযুক্তি তুলে ধরছে। ফরাসি ব্র্যান্ড রেনো এনেছে তাদের উন্নত মেগান ই-টেক সংস্করণ, যার ৬৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টার এলএফপি ব্যাটারি এক চার্জে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ছুটতে সক্ষম। এ ছাড়া স্টেলান্টিস ও ভক্সওয়াগেন গ্রুপ বেশ কিছু নতুন সাশ্রয়ী ইভি মডেল ও কনসেপ্ট কার উন্মোচন করেছে। স্টেলান্টিস লিপমোটরের মতো চীনা কোম্পানির সাথে যৌথভাবেও কিছু গাড়ি প্রদর্শন করছে।
চীনের এই প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়েছে ইউরোপীয় অটো-ইন্ডাস্ট্রির ওপর। খরচ কমাতে জার্মান জায়ান্ট ভক্সওয়াগেন ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার পদ কমানোর পরিকল্পনা করছে, যা অন্যান্য সংযোগ শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিকভাবে, শুল্ক বিরোধ ও সুরক্ষানীতির মধ্যেই ইউরোপের মাটিতে চীনের বাণিজ্যিক প্রভাব বিশ্ব গাড়িশিল্পের ভবিষ্যৎ পথরেখা নতুন করে এঁকে দিচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








