তাহফিজুল কুরআনিল করিম ফাজিল মাদরাসার অ্যাডহক কমিটি গঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে দারুল ইহসান ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত তাহফিজুল কুরআনিল করিম ফাজিল মাদরাসার পাঁচ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ কমিটির অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ কে এম মুহা: নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কমিটির সদস্যদের নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে মো: ফজলুল করিমকে। বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন সাঈদ। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য করা হয়েছে দেলোয়ার বিন রাজীকে। প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ডা.  মো: আবদুল করিম। আর মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
যদিও এই কমিটি গঠন নিয়ে এক চক্র নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এই চক্রটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে প্রতারণা ও ধোঁকা  দেয়ার চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীতে গোয়েন্দাজালে ধরা পড়ে তারা সবাই। মামলা সূত্র ও আশুলিয়া থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসা, গণকবাড়ী, আশুলিয়া ঢাকার অ্যাডহক কমিটি গঠনের নিমিত্তে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতির অভিযোগে সৈয়দ সানজীদ (৪৫) ও  উপাধ্যক্ষ নেয়ামত উল্যাহকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালত জেলহাজতে প্রেরণ করা  হয়েছে। আশুলিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির দফতর হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচজন নামীয় আসামি ও ১০-১২ অজ্ঞাতনামা আসামি বিগত ৮.৯.২৬ ইং তারিখে আশুলিয়া তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসায় এ জালিয়তি করেছিল। এই দুষ্কর্মের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে পুলিশ সৈয়দ সানজিদকে আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডে সানজিদ তা স্বীকারও করেছে। ওই সৈয়দ সানজিদ নিজেকে মাদরাসার উপপরিচালক দাবি করে অথচ মাদরাসায় এমন কোনো পদই নাই। তদুপরি বিগত ২৮.৯.২০২৬ ইং তারিখে নিজেরাই মাদরাসায় ভাঙচুর করে মাদরাসা পরিচালনাকারী মূল কর্তৃপক্ষ দারুল ইহসান ট্রাস্টের নির্বাহীদের দায়ী করে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি জানান, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা জেলাহাজতেও রয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে মাদরাসার ভবন ও মার্কেট দখল করার চেষ্টা তদবির করে আসছিল। এখন প্রকৃত মালিকদের নিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমাদের পক্ষ থেকে  নতুন কমিটিকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা  দেয়া হবে।  
এদিকে  নতুন কমিটি গঠনের চিঠি অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ ছয় মাস। ৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৫ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কমিটিকে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাডহক কমিটি নির্ধারিত মেয়াদের পর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এ ছাড়া বর্তমান কমিটির মেয়াদের মধ্যে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাব দাখিল করতে হবে।
চিঠির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কমিটির সভাপতি, বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ গঠন করাই এ কমিটির প্রধান দায়িত্ব বলে চিঠিতে উল্লিখিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে।