
আজিজুল হক গাজীপুর
গাজীপুরে কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিবন্ধন ও পাঠদানের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা এখনো কাটেনি। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি কার্যক্রম কিছুটা গতি পেলেও শর্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে আসন্ন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর অন্তত দুই হাজার ৬৩৭ জন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি বিনামূল্যের বই প্রাপ্তি ও অন্যান্য শিক্ষাসুবিধা পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, গাজীপুরের ছয়টি উপজেলায় বর্তমানে দুই হাজার ১৯৩টি অনিবন্ধিত বা পাঠদানের অনুমতিবিহীন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে প্রায় পাঁচ লাখ চার হাজার ৫৭৮ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছয় হাজার ৫৯৪ জন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার আলোকে নিয়মানুযায়ী পঞ্চম শ্রেণীর ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাওয়ার কথা। সে হিসাবে অন্তত দুই হাজার ৬৩৭ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চেয়ে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নুরুল করিম ভূঁইয়া। চিঠিতে অনিবন্ধিত বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আসন্ন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কিন্ডারগার্টেনসহ) নিবন্ধন বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী প্রাথমিক পরিদর্শনের পর ১৫টি শর্ত পূরণের সাপেক্ষে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের জন্য পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে বিধিমালার ভবন ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত শর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়েরের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় গাজীপুরে নতুন করে পাঠদানের অনুমতি দেয়া স্থগিত হয়ে পড়ে। অন্য দিকে উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়ার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হন তৎকালীন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মাসুদ ভূঁইয়া।
তদন্তে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের সত্যতা মেলে। ফলে স্থবিরতা আরো বৃদ্ধি পায়।
জটিলতার সমাধানে সম্প্রতি গাজীপুর কেজি স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করা, আবেদন করা যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয়া, কারিগরি শর্ত পূরণের জন্য যৌক্তিক সময় প্রদান এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম মান্নু ও সাধারণ সম্পাদক মো: রওনক হোসেন বলেন, আইনি বিষয়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে গাজীপুরে এত দিন নিবন্ধন আটকে রাখা হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করতে গিয়ে শিক্ষক-মালিকরা এখন হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতার দায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
তবে নিবন্ধন বন্ধ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তসলিম হোসেন বলেন, নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি, এটি চলমান রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পেরেছে, তাদের সনদ দেয়া হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








