
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ‘জামালপুর-১’ অনুসন্ধান কূপ খনন শেষে এবার গ্যাস উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। পাশাপাশি উপজেলায় আরও দুটি গ্যাস কূপের সন্ধান পেয়ে সেখানে খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের তারতাপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে প্রথম সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ২৪ জানুয়ারি ‘জামালপুর-১’ কূপের খনন শুরু হয়। প্রায় ১৯ মাস খননকাজ চালানোর পর সম্প্রতি এর প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। মাটির নিচে ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করে গ্যাস সমৃদ্ধ স্তরের সন্ধান পায় প্রকৌশলীরা।
খনন কেন্দ্রের ফিল্ড ইনচার্জ বায়েজিদ হোসেন জানান, কূপে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় প্রধান গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়েছে। এই কূপ থেকে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে বাপেক্সের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রথম কূপের সাফল্য ছাড়াও মাদারগঞ্জে আরো দুটি কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলো গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকায় ‘জামালপুর-২’ এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকায় ‘জামালপুর নর্থ-১’। দুটি কূপই আড়াই হাজার মিটার করে খনন করা হবে, যার জন্য প্রাথমিক সিভিল কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে পাইপলাইনে সংযোগ দেয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করে এই গ্যাস সরাসরি সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় সরবরাহ করা হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় সার কারখানার গ্যাসের ঘাটতি অনেকটাই মেটানো সম্ভব হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








