ফখরের ব্যাটে ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান পাকিস্তানের

ক্রীড়া ডেস্ক
পাকিস্তান ক্রিকেটে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন ফখর জামান। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে প্রায় ১৮ বছর পর কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ট্রফি হাতে তুলেছে পাকিস্তান। সর্বশেষ ২০০৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কিটপ্লাই কাপ জিতেছিল তারা। সেটিও ছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ। এবার গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনালে ফখরের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতেই ফিরল পাকিস্তানের শিরোপার হাসি। তবে ক্রিকেটে পাকিস্তান সবশেষ শিরোপা জিতেছিল ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ৯ বছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন ফখর জামান। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানে এবারো ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেছিলেন এই বাঁ হাতি ওপেনার। 
লাহোরে গত পরশু ফাইনালে আগে ব্যাট করে পাকিস্তানের সামনে ৩২৬ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। বিশাল রানকে তাড়া করতে নেমে ১৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন ফখর। বাঁ হাতি এই ওপেনার ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি। থিকসেনার বলে আউট হওয়ার আগে ৭৫ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন সাদ বেগ। আর সাদ বেগকে সাথে নিয়ে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান ফখর। শেষ পর্যন্ত আরাফাত মিনহাস (৩১ বলে ৬১) ও হাসান নওয়াজের ৪৫ বলে অপরাজিত ৩৭) গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ৪৮.৩ ওভারে তিন উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। 
ত্রিদেশীয় সিরিজে অবশ্য সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ফখরের। চার ম্যাচে রান করেছিলেন মাত্র ৩১। তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার মধ্যেও বড় ম্যাচে জ্বলে উঠার দীর্ঘ ইতিহাস থেকেই শেষ পর্যন্ত জায়গা পেয়ে যান ফাইনালে। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি এখনো পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস। ফাইনালে তার ম্যাচজয়ী ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি পাকিস্তানের ট্রফি জয়ে মূল ভূমিকা রেখেছিল। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-২০ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও ৪৬ বলে ৯১ রান করে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত পরশু ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে সুযোগ পেলেও আসিতা ফার্নান্দোর বলে কাট শট ডিপ থার্ডে ক্যাচ হওয়ার উপক্রম হলেও ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন দিলশান মাদুশঙ্কা। সেই জীবন পেয়েই যেন নতুন করে শুরু করেন ফখর। দলের জয়ে ভিত গড়ে দেয়ার পথে করলেন সেঞ্চুরি। কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ব্যাট হাতে পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডে দু’টি সেঞ্চুরি করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার তিনি; এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল কিংবদন্তি সাঈদ আনোয়ারের।

Advertisement