
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে ওঠার লড়াইটা এত দিন অনেকটাই ছিল অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টানা দুই টেস্ট হেরে সেই আধিপত্যে বড় ধাক্কা। অন্য দিকে সিরিজ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে প্রোটিয়ারা। এক দিনে দু’টি টেস্টের ফলাফল পাল্টে দিয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের চেহারা। আর সেই পরিবর্তনে নতুন করে আলোচনায় নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ।
গতপরশু শনিবার ঘরের মাঠে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে টেম্বা বাভুমার দল। শুধু সিরিজ জয়ই নয়, ১২৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও নিজেদের করে নিয়েছে তারা। ১২২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয়ের আগে একই দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের ফলাফল মিলিয়ে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট টেবিলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। অস্ট্রেলিয়ার পতনে ৭২.২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ড। ৭১.৪২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর ৬৯.২৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে লড়াই এখনো অনেক বাকি। ৯ দলের এই প্রতিযোগিতায় বাকি রয়েছে ১০টি টেস্ট সিরিজ। শেষ ম্যাচগুলোতে সামান্য হেরফেরই বদল হতে পারে পুরো হিসাব।
নিউজিল্যান্ডের সামনে এখন শীর্ষস্থান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্ট, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চার টেস্ট, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্ট এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাঠে আরো দুই টেস্ট খেলবে কিউইরা। বাকি ১০ ম্যাচই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছয়টিতে জিতলে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৪.৬ শতাংশে। যা ফাইনালে ওঠার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। তবে সাত জয় ও তিন হার নিয়ে চক্র শেষ করতে পারলে পয়েন্ট হবে ৭০.৮৩ শতাংশ। তখন ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই জোরালো হবে। বিশেষ করে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ দু’টি তাদের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে প্রোটিয়ারা। বাকি সাত টেস্টের পাঁচটিই খেলবে নিজেদের মাঠে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ রয়েছে তাদের। এরপর শ্রীলঙ্কার মাঠে খেলতে হবে আরো দুই টেস্ট। বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সব ক’টিতে জিততে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান আরো শক্ত হবে। কিন্তু বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পেলেই পয়েন্ট হবে ৬৪.২৮ শতাংশে। ফাইনালে ওঠার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদলগুলোর ফলাফলের ওপর।
৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ছিল অসিরা। ১০ ম্যাচে জয় ছিল আটটিতে, হার মাত্র দু’টি। কিন্তু প্রোটিয়াদের কাছে টানা দুই হারে প্রথমবারের মতো এই চক্রে শীর্ষ দুইয়ের বাইরে চলে গেছে দলটি। অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন দু’টি বড় পরীক্ষা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট এবং ২০২৭ সালের শুরুতে ভারতের মাটিতে পাঁচ টেস্টের সিরিজ। বাকি ৯ ম্যাচের অন্তত ছয়টিতে জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৬৭.২ শতাংশ। চার জয় ও কয়েকটি ড্র নিয়ে অবশ্য ফাইনালের আশা টিকে থাকতে পারে।
৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে চতুর্থ স্থানে ভারত। বাকি সাত টেস্টের দু’টি নিউজিল্যান্ডের মাঠে, পাঁচটি নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সব ক’টিতে জিততে পারলে ভারতের পয়েন্ট বেড়ে হবে ৭০.৩৭ শতাংশ। ছয় জয় পেলে তারা দাঁড়াবে ৬৫ শতাংশে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে হোঁচট খেলে ভারতের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভারতের ফাইনাল ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে নিউজিল্যান্ড সফরের ওপর।
এই সমীকরণের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানও বেশ আলোচনার দাবি রাখে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারের পর ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। তবে ফাইনালের দৌড় থেকে এখনই ছিটকে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং বাকি পাঁচ টেস্টে নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে বড় চমকও দেখাতে পারে টাইগাররা। সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আরো একটি টেস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে দুই টেস্ট এবং ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট বাকি। এই পাঁচ ম্যাচের সব ক’টিতে জিততে পারলে পয়েন্ট ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তখন ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে। কিন্তু একটি ম্যাচে হারলেই পয়েন্ট নেমে আসবে ৬১.১১ শতাংশে। ফলে ভুল করার সুযোগ নেই বাংলাদেশের।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








