
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
২০টি নতুন জাতীয় রেকর্ড, নতুন প্রতিভা ফাতিহা মাহতাব মাইশার চমক, ইরফানা খাতুনের পুলে ঝড় তোলা, জুঁই আক্তারের সেরা খেলোয়াড় হওয়া আর পুরনো সামিউল ইসলাম রাফির দাপট। এর মধ্যে দিয়েই শেষ হলো এবারের ৩৫তম ম্যাক্স জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা। সবচেয়ে বেশি ৮টি স্বর্ণ জিতে পুরস্কার হিসেবে মোটর সাইকেল পেয়েছেন সেনাবাহিনীর জুঁই আক্তার। তবে এবারের জাতীয় সাঁতারের রেকর্ড আর পারফরম্যান্সের আলোকে এপ্রিলের এস এ গেমসে বাংলাদেশের সাঁতারে স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। এতে তো হ্যান্ড টাইমিংয়ে হয়েছে এবারের জাতীয় সাঁতার। এতে সাঁতারুদের টাইমিংয়ের আসল চিত্র ফুটে উঠে না। তার উপর নেই বিদেশী কোচ। ফলে এস এ গেমসে সাঁতারে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনাটা সন্দেহের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে।
আশি ও নব্বই এর দশকে হাল আমলের এস এ গেমস হতো সাফ গেমস নামে। তখন বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের উর্বর একটি ক্ষেত্র ছিল এই সাঁতার। অথচ এই শতাব্দীতে এস এ গেমসে সাঁতার থেকে স্বর্ণ এসেছে মাত্র চারটি। এর দু’টি মাহফুজা খাতুন শীলা গলায় তুলেছেন ২০১৬ সালের শিলং-গৌহাটি এস এ গেমসে। এর আগে ২০০৬ কলম্বো এস এ গেমসে শাহজাহান আলী রনি, এবং ২০০৪ এর ইসলামাবাদ এস এ গেমসে রুবেল রানা দেশকে স্বর্ণ এনে দেন।
শীলা ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে স্বর্ণ জয় করেছিলেন। রুবেল রানার স্বর্ণ এসেছিল ১০০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে। আর রনি ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে স্বর্ণ জিতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজাতে বাধ্য করেন আয়োজকদের। ২০১৯ কাঠমান্ডু-পোখারা এস এ গেমসে বাংলাদেশের কোনো সাঁতারুই স্বর্ণ জিততে পারেনি। ফলে প্রশ্ন পাকিস্তানের মাটিতে সুইমিং পুলে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়াবেন কে। এখানে ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছেন সামিউল ইসলাম রাফি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই সাঁতারু এবারের জাতীয় আসরে ৪টি রেকর্ডসহ ৭টি স্বর্ণ জয় করেছেন। হয়েছেন সেরা সাঁতারু। গত পরশু তিনি দ্রুততম সাঁতারু হয়েছেন নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে। ৫০ মিটার ফ্রি-স্ট্রাইলে তিনি ২৩.৮৪ সেকেন্ডে এই রেকর্ড গড়েছেন। আগের রেকর্ডটি ছিল ২৩.৮৫ সেকেন্ড। গত বছর নিজেই করেছিলেন এই রেকর্ড। এ ছাড়া ৪ গুণিতক ১০০ মিটার মিডলে রিলেতে তিনি নতুন রেকর্ড করেছেন ওমর আলী, তোফায়েল ও কাজল মিয়াকে সঙ্গী করে। ৪ গুণিতক ১০০ মিটার মিক্সড ফ্রি-স্টাইল রিলেতেও তিনি রেকর্ড করেছেন। এ ইভেন্টে তার সঙ্গী ছিল কাজল মিয়া, ফাতিহা মাহতাব মাইশা ও সোনিয়া আক্তার। রাফি থাইল্যান্ডে ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে স্বর্ণ জিতেছেন। মালয়েশিয়ায়ও ব্যাক স্ট্রোকে স্বর্ণ পান।
২০০৪ এস এ গেমসে স্বর্ণ জয়ী রুবেল রানার আশাবাদ এই সামিউল ইসলাম রাফিকে ঘিরে। এ ছাড়া উঠতি দুই নারী সাঁতারু ইরফানা ও মাইশাকে ঘিরেই স্বর্ণের আশা করছেন। তালিকায় রেখেছেন ৪০০ মিটার ইন্ডিভিজুলাল মিডলেতে কাজল মিয়ার নামও। রুবেল আরো জানান, ৪০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল ও ২০০ মিটার বাটার ফ্লাইতে ইরফানা খাতুনের সম্ভাবনা আছে স্বর্ণ জেতার । তার মতে, তিনটি রেকর্ডসহ ৫ স্বর্ণ জেতা ফাতিহা মাহতাব মাইশাও চমক দেখাতে পারে ।
তবে কোচ অনিক ইসলামের মতে, এখনো সময় হয়নি বলার যেকোনো ইভেন্টে বাংলাদেশ স্বর্ণ জিততে পারে এস এ গেমসে। এস এ গেমসে দুই ব্রোঞ্জ জয়ী কুষ্টিয়ার আমলা থেকে উঠে আসা এই সাবেক সাঁতারুর মতে, ভারতের সাঁতারুরা অনেক এগিয়ে। তারা দেশের বাইরে প্রচুর সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। এতে তাদের পারফরম্যান্সের উন্নতি হচ্ছে। সেখানে আমরা পিছিয়ে। আমাদের সাঁতারুদের যদি বেশি বেশি করে আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে ভালো করা সম্ভব।
সাঁতার কোচ ও সংগঠন আমিরুল ইসলামের মতে, বিদেশী কোচের অধীনে উন্নত ট্রেনিং ও ভালোমানের খাবার দিলে আগামী পাঁচ মাসে সাঁতারুদের আরো উন্নতি করানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে স্বর্ণ জয়ের আশা দেখতে পারি।
গত পরশু ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে প্রথম হয়ে দ্রুততম নারী সাঁতারু হওয়া মাইশা জানান, আমি দেশটি চারটি স্বর্ণ এনে দেয়ার স্বপ্ন দেখছি। এই চারটি ইভেন্ট হলো ৫০ ও ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইল এবং ৫০ ও ১০০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে। এখনো ১৫ বছর হয়নি মাইশার। তাই তাকে ঘিরে প্রবল আশাবাদ নৌবাহিনীর কোচ এবং এস এ গেমসে পদক জয়ী কোচ নিয়াজ আলীরও।
সেরা সাঁতারু হয়ে মোটর সাইকেল জেতা জুঁই আক্তারও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এস এ গেমসে দেশটে স্বর্ণ এনে দেয়ার। রাফিও ব্যাক স্ট্রোকে স্বর্ণ এনে দেয়ার কথা জানান এস এ গেমস থেকে।
আসরে ৩৪ স্বর্ণ ২৪ রৌপ্য এবং ১৫ ব্রোঞ্জ পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ১৬ স্বর্ণ, ২২ রৌপ্য ও ২৬ ব্রোঞ্জ জিতে রানার্সআপ হয়েছে সেনাবাহিনী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








