গার্মেন্টশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবি

 নিজস্ব প্রতিবেদক
গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে গ্রিন বাংলা গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মোসা: সুলতানা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো: ইলিয়াস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী কমিটির সভাপতি রোজিনা আক্তার সুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ফরিদ উদ্দীন, দফতর সম্পাদক ও নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি, সহ-সভাপতি সেলিনা হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মো: তাহেরুল ইসলাম, কার্যকরি সদস্য অঞ্জলি, গাজীপুর কমিটির নারীবিষয়ক সম্পাদক মৌসুমী সরকার, আহমেদ ফ্যাশন শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রুবেল, জাকিয়া সুলতানা, জোসনা বেগম, সালমা আক্তার, যমুনা ফ্যাশন ওয়্যার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক হোসেন, প্রান্ত মিয়া, রাসেলসহ মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা। সংহতি বক্তব্য রাখেন নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইন।
সভাপতির বক্তব্যে সুলতানা বেগম বলেন, ২০২৬ সালের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে নির্ধারিত বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা, ন্যূনতম মজুরি ইতোমধ্যেই খাদ্য, বাসা ভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে প্রকৃত মূল্য হারিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি লাখ লাখ শ্রমিকের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের রফতানিমুখী পোশাকশিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও যাতায়াতসহ জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিক ও পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কথা বিবেচনা করছে। এই প্রক্রিয়া যেন আবার দীর্ঘসূত্রতা, নামমাত্র পরামর্শ কিংবা মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যে বন্ধ দরজার আলোচনায় পরিণত না হয়। 
বক্তারা বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধনের ফলে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা তিন বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভর করে কোনো শিল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। শ্রমিকের জীবনমান উন্নত করা, শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রফতানি খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার স্বার্থেই একটি ন্যায়সঙ্গত মজুরি কাঠামো জরুরি। শ্রমিকের মজুরি বাড়ালে শিল্প ধ্বংস হবে, এ ধরনের প্রচারণা বাস্তবতাবিবর্জিত। বরং ন্যায্য মজুরি শ্রমিকের জীবনমান, উৎপাদনশীলতা, কর্মস্থলে স্থায়িত্ব এবং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।

Advertisement