
স্বাস্থ্যসেবা সঙ্কট মানুষকে অনেকটা অসহায় করে তোলে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে যখন কেউ চিকিৎসক ও শয্যা না পান তখন দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে কিংবা বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নেন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই সমস্যা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যা নেই। সীমিত শয্যা দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোগীরা ভুগছেন চরমভাবে। তার ওপর আছে চিকিৎসক সঙ্কট। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি সহযোগী দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৩২টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। এর মধ্যে দু’জন প্রশিক্ষণে এবং একজন ছুটিতে থাকায় মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে সেবা কার্যক্রম। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৬০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। এর মধ্যে ৩০-৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক রোগী আসেন। ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
গত বুধবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ আর্থিক চাপে পড়ছে। শুধু ২০২২ সালেই এই ব্যয়ের কারণে ৭২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে দরিদ্র মানুষের ওপর। দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিয়ে এ অবস্থা সৃষ্টির অন্যতম কারণ সরকার তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছেন।
চুনারুঘাট অন্য অনেক উপজেলার মতো সাধারণ কোনো উপজেলা নয়। এটি একটি পর্যটনবান্ধব উপজেলা। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অনেকসময় পর্যটকদেরও এখানে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এমন একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবসময়ই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও শয্যা থাকা দরকার।
চিকিৎসাসেবার অপর্যাপ্ততা দূর করে সরকারকে প্রতিটি মানুষের চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শহরাঞ্চল বিশেষ করে জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসকের অভাব প্রকট নয়। যত সঙ্কট ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা পর্যায়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বছরের পর বছর ধরে চিকিৎসকের অভাব থেকেই যায়। নতুন নিয়োগ দেয়া হয় না। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে সাধারণ জনগণকে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে বিপুল অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এই অবস্থা কোনো সুস্থতার লক্ষণ নয়।
চিকিৎসার মতো গুরুতর বিষয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো দরকার, যাতে এলাকাবাসীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়। আমরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








