
দীর্ঘদিনের অবহেলা, অবৈধ দখল ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে সিলেট নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তোপখানা ভূমি অফিসসংলগ্ন পশ্চিমের ছড়া। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ছড়াটি এখন অনেকটা ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
আবার কোথাও ছড়ার জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা, এমনকি বহুতল ভবনও। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে অতীতে এ এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ছড়াটি উদ্ধার ও সচল করা না হলে ভবিষ্যতেও একই দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছড়াটির বিভিন্ন অংশে প্লাস্টিক, পলিথিন, পরিত্যক্ত পাত্রসহ নানা ধরনের বর্জ্য জমে রয়েছে। কোথাও কালচে ও দূষিত পানি আটকে থাকায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। দুই পাশের ভবনঘেঁষা অংশে ছড়ার জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছড়াটি পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের স্বাভাবিক সক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার পথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছড়াটি উদ্ধারে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়ার কথা শোনা গেলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি; বরং এই সুযোগে দখলদারিত্ব বেড়েছে। ছড়ার জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা ও বহুতল ভবন। অথচ ছড়াটির অবস্থান সিলেট সদর তোপখানা ভূমি অফিসের পশ্চিমে। সরকারি দফতরের এত কাছে ছড়া দখল ও দূষণের এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ছড়ার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক না হলে অতীতের মতো আবারো বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে হবে তাদের। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ছড়াটি জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও স্থাপনা চিহ্নিত এবং আইনানুগভাবে দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসাথে ছড়া থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং পানিপ্রবাহ সচল করতে সিলেট সিটি করপোরেশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও বন্যার ঝুঁকি কমাতে ছড়াটির সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, অতীতের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ছড়াটিকে দখলমুক্ত ও পানি নিষ্কাশনের উপযোগী করে তুলবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








