
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বনদস্যু দমনের নামে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সাজিয়ে হত্যার অভিযোগের কথা জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম। তার জবানবন্দী অনুযায়ী, আগে আটক ব্যক্তিদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গুলি করে হত্যার পর ঘটনাগুলোকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে দেখানো হতো। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করতে নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি ভুল ও অসত্য সুরতহাল, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হতো বলেও তিনি দাবি করেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে রফিকুল ইসলামের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট সাক্ষ্যের জন্য আগামী ১১ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এ দিন সকাল থেকে মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দী দেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যখনই জনসম্মুখে আসত, তখন ওই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য লোকদেখানো প্রশাসনিক নির্বাহী তদন্ত করা হতো। প্রকৃত অপরাধীরা যেন আড়ালেই থেকে যায়, সে জন্য নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনিক তদন্ত ব্যবহার করা হতো।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের উদ্দেশ্যে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ গোপন করে কর্মকর্তাদের মিথ্যা ও ভুল ময়নাতদন্ত এবং পুলিশ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বাধ্য করা হতো। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করা। তার তদন্তে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে বলে তিনি জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন। ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম মল্লিকের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি এবং এর সাথে জিয়াউল আহসান সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রথম অভিযোগ : তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জুলাই দিবাগত রাতে র্যাবের তৎকালীন গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল এবং র্যাব-৩ ব্যাটালিয়নের একটি দল র্যাব সদর দফতর থেকে আগে আটক থাকা ভিকটিম সজলসহ তিনজন বন্দীকে নিয়ে রওনা হয়।
টঙ্গী হয়ে ঢাকা বাইপাস সড়ক ধরে কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়ি থামিয়ে জিয়াউল আহসানসহ অন্য কর্মকর্তারা একটি সেতুর ওপর নামেন। সেখানে তার নির্দেশে একজন বন্দীকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় গাড়ি থেকে নামিয়ে আনা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিয়াউল আহসান নিজেই তাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং সেতুর নিচে ফেলে দেন।
এরপর গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পর আরেকটি বড় সেতুর ওপর থামানো হয়। সেখানে আরেকজন বন্দীকে নামিয়ে আনা হয়। জিয়াউল আহসান তার সাথে থাকা এক র্যাব কর্মকর্তাকে ওই বন্দীকে গুলি করার নির্দেশ দিলে তিনি গুলি করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন জিয়াউল আহসান নিজেই ওই বন্দীকে গুলি করে হত্যা করে সেতুর নিচে ফেলে দেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দীতে জানান।
এরপর আরো কিছুদূর গিয়ে গাড়ি থামিয়ে অপর একজন বন্দীকে বের করে আনা হয় এবং জিয়াউল আহসান নিজ হাতে তাকে গুলি করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেন বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে আরো এক বন্দীকে দুই র্যাব সদস্য গুলি করে হত্যা করে পাশের স্থানে লাশ ফেলে দেয় বলে তিনি জানান।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী অনুযায়ী, এভাবে চারজনকে হত্যা করে জিয়াউল আহসান ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(ক), (ছ), (ঝ), ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যা একই আইনের ২০(২) ও ২০ক ধারায় শাস্তিযোগ্য।
দ্বিতীয় অভিযোগ : তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দীতে বলেন, সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক নিজের পরিচয় গোপন করে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৫ মার্চ ২০১০ তারিখে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের হাতে আটক হন। তাকে একটি গোপন স্থানে বন্দী রাখা হয়।
ওই বছরের ১০ থেকে ১৫ মে’র মধ্যে রাতে আটক নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ আরো তিন-চারজনকে নিয়ে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল এবং র্যাব-৮ ব্যাটালিয়নের দু’জন সদস্য বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানাধীন চরদুয়ানী ইউনিয়নের বরফকলের ঘাট থেকে ট্রলারে করে চরদুয়ানী খাল হয়ে বলেশ্বর নদীতে যায় বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
তার জবানবন্দী অনুযায়ী, ট্রলারের ওপর নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ ওই তিন-চারজনকে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ও তার নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাদের পেট ছুরি দিয়ে ফেড়ে শরীরের সাথে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে দেয়া হয়।
১৭ মে ২০১০ তারিখে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা এলাকার বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে চর রায়েন্দা গ্রামের একটি চরে ভাসমান ও বিকৃত অবস্থায় পুলিশ একটি লাশ উদ্ধার করে এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই অজ্ঞাতনামা লাশটি ভিকটিম নজরুল ইসলাম মল্লিকের বলে শনাক্ত করা হয়। এরপর তার পরিবার কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, জিয়াউল আহসান র্যাব-৮-এর মাধ্যমে বিভিন্ন মাঝির ট্রলার ভাড়া করে ওই ট্রলারে করে ‘গেস্টাপো’ পদ্ধতিতে বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীতে হত্যা করে লাশ ফেলে দিতেন। বিষয়টি আলকাছ মল্লিক কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকে জানিয়ে দেন। জিয়াউল আহসান বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৫ জুন র্যাবের কয়েকজন সদস্য আলকাছ মল্লিককে তার নিজ এলাকা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বরিশালস্থ র্যাব-৮ ব্যাটালিয়ন, র্যাব সদর দফতর এবং তাদের জানা-অজানা বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ও খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। র্যাব কর্মকর্তাদের আচরণ ও কথাবার্তায় পরিবারের সদস্যদের মনে আলকাছ মল্লিককেও নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে বিশ্বাস সৃষ্টি হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মল্লিক ও আলকাছ মল্লিকসহ কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা এবং হত্যার নির্দেশ দেয়ার মাধ্যমে জিয়াউল আহসান ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(ক), (ছ), (জ), ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে, যা একই আইনের ২০(২) ও ২০ক ধারায় শাস্তিযোগ্য।
তৃতীয় অভিযোগ : তৃতীয় অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০১১ সালের ১২ নভেম্বর খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন শিবসা নদীর পূর্ব পাড়ে সুন্দরবনের মধ্যে নিশানখালী নামক স্থানে বনদস্যু দমনের নামে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘সংঘর্ষের’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার জবানবন্দী অনুযায়ী, মাসুম, মাসুদ ও মান্নান নামের দু’জন বন্দীকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাব-৮ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা বরগুনার পাথরঘাটা থানার চরদুয়ানী থেকে ট্রলারে করে নিয়ে যান। ট্রলারটি পূর্বনির্ধারিত গন্তব্য নিশানখালী এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই দুই ভিকটিমকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান। তাদের লাশ থানায় জমা দেয়া হয়। ওই অভিযানে জিয়াউল আহসান ও তার সহযোগীরা অংশ নেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, ২০১২ সালের ১৬ মার্চ বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের দক্ষিণ অংশে ভোলা নদীর মরাভোলা খালের দক্ষিণ পাশে একটি বনদস্যু দমন অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে জিহাদ, সোহাগ, আল আমিন, আসাদ ও বেল্লাল নামের পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তার জবানবন্দী অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডকে বনদস্যু দমন অভিযান হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে র্যাব হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। জিয়াউল আহসানের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় র্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ওই অভিযানে অংশ নেন। আগে থেকেই আটক জিহাদ, সোহাগ, আল আমিন, আসাদ ও বেল্লালকে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় বরগুনার চরদুয়ানী থেকে ট্রলারে করে মরাভোলা খালের পাড়ে নিয়ে এসে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার অনেক আগে ওই ব্যক্তিদের আটক করে র্যাবের বিভিন্ন স্থাপনায় রাখা হয়েছিল। হত্যার পর তাদের লাশ থানায় জমা দেয়া হয়।
এ ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা থানাধীন চরদুয়ানী ঘাট থেকে সুন্দরবনের কটকা এলাকার উদ্দেশে ট্রলারে করে রওনা হন। যাত্রার সময় শিশির কুমার মণ্ডল ওরফে মন্টু মেম্বার, বাচ্চু, জামাল মুন্সী ওরফে জামাল এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচজনসহ মোট আটজনকে চোখ ও হাত বেঁধে ট্রলারে তোলা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী অনুযায়ী, ট্রলারটি সুন্দরবনের দিকে যাওয়ার পথে রাত ১টা থেকে ২টার দিকে আগে আটক থাকা অজ্ঞাতনামা চারজনকে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর তাদের পেট ফেড়ে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পরে শিশির কুমার মণ্ডল ওরফে মন্টু মেম্বার, বাচ্চু, জামাল মুন্সী ওরফে জামাল এবং অজ্ঞাতনামা একজনসহ মোট চারজনকে নিয়ে কটকার উদ্দেশে রওনা হয় দলটি। ভোর হওয়ার আগে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের কটকা বন টহল ফাঁড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দুধমুখী গাংসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে অন্য ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘সংঘর্ষের’ ঘটনার মতো তাদের চারজনকেও গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
তদন্ত প্রতিবেদন : তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দীতে বলা হয়, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ভিকটিম সজল, সাবেক বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলাম মল্লিক, ফিশিং বোট মালিক আলকাছ মল্লিক, মাসুম, মাসুদ, মান্নান, জিহাদ, সোহাগ, আল আমিন, আসাদ, বেল্লাল, শিশির কুমার মণ্ডল ওরফে মন্টু মেম্বার, বাচ্চু, জামাল মুন্সী ওরফে জামালসহ অজ্ঞাতনামা কমপক্ষে ১৫০ জনকে হত্যা ও হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(ক), (ছ), (জ), ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং তদন্ত অব্যাহত রাখেন।
এর আগে ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেয়া হয় এবং একই দিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে। পরে ২৩ ডিসেম্বর এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষের দিকে। বর্তমানে এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দী গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
জিয়াউলকে একা আনা-নেয়া করা বিপজ্জনক : এ দিকে জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একা একটি গাড়িতে আনা-নেয়া করা হয় বলেছেন তার আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার। শুনানিতে তিনি বলেছেন, ‘প্রিজন ভ্যানে জিয়াউলকে একা আনা-নেয়া করা বিপজ্জনক, উদ্বেগজনক বিষয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এককভাবে না এনে, জিয়াউল আহসানকে যেন অন্য আসামিদের সাথে আনা হয়।’ বৃহস্পতিবার এই আবেদন করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তার আবেদনের বিরোধিতা করেছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।
শুনানিতে আসামি জিয়াউল আহসানকে জেলখানায় রেখে, সেখান থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ পরিচালনার আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেন, কারাগার থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আসামির অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
গাজী মোনাওয়ার বলেন, অন্য আসামিরা জীবননাশের আশঙ্কার কথা বলছেন না। জিয়াউল যে নিরাপত্তার কথা বলছেন, এটি স্বীকার করেই তিনি বলছেন, তাকে না এনে কারাগারে রেখে ভার্চুয়ালি শুনানি করা হোক। প্রসিকিউশনের এসব কথার বিরোধিতা করেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, একা আনা হচ্ছে দেখেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্য সব আসামির সাথে জিয়াউলকে আনলে সমস্যা কোথায়, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। অন্য কোনো আসামিকে একা আনা হয় না। জিয়াউলকে একা আনা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য কী, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা আসামি জিয়াউল আহসান কথা বলতে চান। ট্রাইব্যুনাল তাকে কথা বলার অনুমতি দেন। তখন জিয়াউল আহসান বলেন, তাকে একা একটি গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে তার ওপর দায় চাপাবে। ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিকভাবে এই আবেদনের ওপর কোনো আদেশ দেননি।
শুনানির পর সাংবাদিকদের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি করার পর থেকে জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামির সাথে আনা হতো। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে আনা-নেয়া করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








