জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর হচ্ছে : ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক 

Advertisement

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারও স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
পুলিশের পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেয়া হয়েছে। 
মন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা এবং চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান। 
মন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে এলাকা সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে রাজশাহীর সারদার ন্যায় প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একটি ‘পুলিশ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা এবং ৭২ একর জায়গায় ‘চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার’ স্থানান্তরিত হবে। তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। 
জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ বসতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের কিভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও পরিচালনার আওতায় আনা হবে। সবকিছু একটা সুশাসনের মধ্যে নিয়ে এসে ওই জায়গাটি যে একটা সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল, সেখান থেকে ওই জায়গাটিকে মুক্ত করা হবে এবং একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। 
জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জায়গা নেয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।
এ দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা- বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দু’টি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার/কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবারি, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্রগোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪ শত উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে, যা অপরাধ দমনে গতিশীলতা আনবে। তবে জরুরি অবস্থায় সশস্ত্রবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে এসওপি অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদার করার বিধান বহাল রয়েছে। 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসঙ্ঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।