
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সাভারে ২৪ ঘণ্টায় তিন নারী ও কুমিল্লায় ফসলি জমি থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিঙ্গাইরে পরকীয়ার অভিযোগে স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে স্ত্রী।
আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে তিন নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে পরকীয়ার জেরে স্বামীর হাতে খুন হয়েছে এক গৃহবধূ। এ ছাড়া নির্মাণাধীন ৫তলা ভবনের ছাদ থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ও ভাড়া বাসা থেকে এক নারী পোশাক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় হাজী খালেকের বাড়িতে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আখি আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে তার স্বামী জাহিদ হাসান (২৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহে আখি আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জখম করে হত্যা করে স্বামী জাহিদ। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খাটের ওপর থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক স্বামী জাহিদ হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আখি আক্তার শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। আটক জাহিদ হাসান একই জেলার নালিতাবাড়ী থানাধীন সিটপাড়া গ্রামের তাইজুদ্দিনের ছেলে। আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসূতি মরিচকাটা এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ থেকে রোকসানা বেগম (৪০) নামের এক দুবাই প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত রোকসানা বেগম গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ পাকুল্লা এলাকার প্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী। প্রায় দুই মাস আগে তারা মরিচকাটা এলাকায় নিজেদের নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তিনতলায় ছেলে আলিফ ও মেয়ে মীমকে সাথে নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় ভবনের ছাদে পানির ট্যাংক দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হন রোকসানা। দীর্ঘক্ষণ নেমে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে ছাদে যান। সেখানে তার বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
এ দিকে, বুধবার বিকেলের দিকে আশুলিয়া শিমুলিয়ার পাগলাবাজার সংলগ্ন এলাকায় দেলোয়ার হোসেন দেওয়ানের ভাড়া বাড়ি থেকে তানিয়া খাতুন নামের এক নারী পোশাক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুরে ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় লাশের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর তাজমিন এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়। পরে সে ওই বান্ধবীর সাথে কক্সবাজারে যায়। বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর মেয়ের সাথে তার ফোনে কথা হয়। এরপর আর যোগাযোগ করতে না পেরে সকালে মেয়ের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ফোনটির অবস্থান লালমাই এলাকায় জানতে পেরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুরে মেয়ের লাশ উদ্ধারের খবর পান।
সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ও পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে স্বামী খুন হয়েছে। বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার দক্ষিণ ধল্লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্বামী রাশেদুল ইসলাম (৩৮)। তিনি লালমনির হাট জেলার হাতীবান্ধা থানার ধুবনী গ্রামের মৃত ছোরমান আলীর ছেলে ও দুই সন্তানের জনক। রাশেদুল ঢাকা জেলার সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এস কে এইচ গার্মেন্টে স্যাম্পল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্য দিকে, অভিযুক্ত স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩২) তিনিও ভারটেক্স গার্মেন্টের মেশিন অপারেটরের কাজ করতেন।
অপর দিকে, নিহতের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী রুমাইয়া জানান, মা আমার বাবাকে হত্যা করার জন্য ধারালো ছুরি এনে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়েছিল এটা দিয়ে তোমার বার্থডের কেক কাটা হবে। সেই ছুরি দিয়েই মা আমার বাবাকে খুন করেছে।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণ মামলার আসামি নুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পৃথক দুই মামলায় ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দু’টি মামলায় তাকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: মারুফ হোসেন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা দুই আসামি কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুর ইসলাম বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের আড়োলা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত হবিবর রহমানের ছেলে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








