
নিজস্ব প্রতিবেদক
অক্টোবরেও কমছে না ডেঙ্গু সংক্রমণ, গত সাত দিনে (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত) ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু হাসপাতালেই। সংক্রমণের গতি দেখে চিকিৎসকরা বলছেন, এ মাসে সেপ্টেম্বরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ডেঙ্গু সংক্রমণ। তবে সরকারিভাবে যা দেখানো হয় এর বাইরেও আক্রান্ত ও মৃত্যু আছে, সেগুলোর হিসাব সরকারি দফতরে নেই, জানাও নেই।
চলতি অক্টোবরের শুরুটাও অনেকটা শুষ্ক ছিল। বৃষ্টি হলেও বেশি ভারী বৃষ্টি হয়নি। তবু গত সাত দিনে দেশে ১৪ হাজার ৫৩১ জন নর-নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। অক্টোবরের সাত দিনের মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের মোট রোগীর এক-তৃতীয়াংশ রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। সেপ্টেম্বরে দেশে ৪২ হাজার ৭৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেপ্টেম্বরে অবশ্য ডেঙ্গু সংক্রমণে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, ফলে দৈনিক গড় মৃত্যু ছিল প্রায় পাঁচ জন। কিন্তু অক্টোবরের প্রথম সাত দিনে দৈনিক গড়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা অক্টোবরে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭০ থেকে ১৮০-এর বেশি হতে পারে আশঙ্কা করছেন। বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে দুইশর ঘরও ছাড়াতে পারে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন অধ্যাপক চিকিৎসক নয়া দিগন্তকে বলেন, অক্টোবরে মশক নিধনের বিশেষ অভিযান চালানো উচিত। কারণ, গত সাত দিনে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর যে ট্রেন্ড তাতে মনে হচ্ছে সেপ্টেম্বরের চেয়ে মৃত্যু অনেক বেশি হতে পারে। দেশব্যাপী মশক নিধনে স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করতে পারলে অনেক বেশি কাজে লাগবে। কারণ, স্থানীয় মানুষ জানে কোথায় কোথায় মশার প্রজনন স্থান আছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মৃত্যুটা খুবই অনাকাক্সিক্ষত, জ্বরের শুরুতে ডাক্তার দেখাতে পারলে বা পরামর্শে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে বেশির ভাগই মৃত্যুই এড়ানো সম্ভব। ঢাকা মেডিক্যালে জটিল রোগীরা বেশি আসেন। তারা দেরি করেই হাসপাতালে আসেন, বিশেষ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অনেক সময় এরা অপচিকিৎসার শিকার হয়ে থাকেন। নিজেদের মতো চিকিৎসা করে সুস্থ না হয়ে পরে জটিল হয়ে গেলেই তখন হাসপাতালে আসেন। তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, কেউ যেন নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের (বেসরকারি চিকিৎসকদেরও) ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। গাইডলাইন অনুসারে চিকিৎসা শুরু করলে রোগী স্থানীয়ভাবেই সুস্থ হয়ে যাবেন, ঢাকায় আসারই দরকারই হবে না; যদি না অন্য কোনো জটিল রোগ থাকে।
এ দিকে গতকাল ডেঙ্গুতে সারা দেশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৩৫ জন। যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে তিনজন এবং দুইজনের মৃত্যু খুলনা বিভাগের হাসপাতালে। মৃতদের চারজন পুরুষ এবং দুইজন নারী। মৃতদের মধ্যে নারী বেশি (৫২.১ শতাংশ) কিন্তু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষসংখ্যা বেশি (৬২.৩ শতাংশ)।
গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যে এক হাজার ৯৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯০ জনই রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ২৭৫ জন, উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ২৩৩ জন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৩৮২ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯৫ জন, খুলনা বিভাগে ২৯২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২০৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৩ জন, রংপুর বিভাগে ৬৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৫ জন ভর্তি হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








