আ’লীগের মদদপুষ্ট বিতর্কিত সংগঠনকে বিআরসির সদস্য করার উদ্যোগে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত একটি সংগঠনকে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) স্টেকহোল্ডার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী রোববার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সভা আহবান করা হয়েছে। সভায় বিতর্কিত সংগঠন বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রমতে বিআরসির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সাথে বর্তমান সরকারের ভিশনকে সামনে রেখে সামগ্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়নেও এই সংগঠনটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এ অবস্থায়  কি উদ্দেশ্য বা কেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের (বিআরসি) স্টেকহোল্ডার তালিকায় নতুন করে বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের পরিবর্তে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ  নেয়া  হয়েছে তা নিয়ে সব মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠিতে বিষয়টি এজেন্ডা আকারে যুক্ত করা হয়েছে। 
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮ জাতীয় পর্যায়ে রিহ্যাবিলিটেশন শিক্ষা, সেবা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবীদের নিবন্ধন এবং পেশাগত যোগ্যতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য কাউন্সিলের আইনগত কাঠামো নির্ধারণ করে। আইনটি ১৪ নভেম্বর ২০১৮ সালে প্রণীত হয়। এরপর কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল বিধিমালা, ২০২৫ প্রণীত হয়। আইন ও বিধিমালার পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবী নিবন্ধন ও প্র্যাকটিশনার লাইসেন্স প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন  এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন অতীতে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতাসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরির সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। তবে বর্তমানে সংগঠনটিকে কাউন্সিলের স্টেকহোল্ডার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর ৫(১)(ম) ধারায় প্রথম তফসিলের সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনসমূহ থেকে প্রতিনিধিত্বের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠন থেকে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু কাউন্সিলের আইনগত কাঠামো ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বিধিমালা ও প্রবিধানমালাও প্রণীত হয়েছে, তাই স্টেকহোল্ডার নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারি নথি, প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ভূমিকা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গতকাল সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর কয়েক দফা তাকে খুদে বার্তা দেয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী রোববার দুপুরের পর এ সংক্রান্ত একটি সভা হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কোনো সংগঠনকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার আগে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা এবং সংশ্লিষ্টদের মতামতও নেয়া হবে। আওয়ামী দোসর কিংবা বিতর্কিত কোনো সংগঠনকে বিআরসির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই।