এক পরিবারে একাধিক সার ডিলার নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সার ডিলার হওয়ার সুযোগ বন্ধ রেখে সরকারের প্রণীত নীতিমালাই বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। ফলে এখন থেকে একই পরিবারের একজনের সার ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড থাকলে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না। এর আগে হাইকোর্ট একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিদ্যমান ডিলারশিপ বহাল রাখার বিষয়ে স্থিতাবস্থা দিয়েছিলেন। গতকাল বুধবার ওই আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। চেম্বার বিচারপতি মো: রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
আদেশের ফলে সার ডিলারশিপ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত গত ২৭ আগস্ট প্রণীত নতুন নীতিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান কার্যকর থাকছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নতুন নীতিমালায় একই পরিবারের একজনের ডিলারশিপ বা খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড থাকলে পরিবারের অন্য কেউ ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা হতে পারবেন না। নীতিমালায় ‘পরিবার’ বলতে বাবা, মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলের স্ত্রী, ছেলের ছেলে ও তাদের স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা এবং নির্ভরশীল ভাইবোনকে বোঝানো হয়েছে; যারা একই অন্ন গ্রহণ করেন।
সরকারের এই বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ অক্টোবর হাইকোর্টে দু’টি রিটের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট বিধান কেন অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
একই সাথে রিট আবেদনকারীদের বিদ্যমান ডিলারশিপ বাতিল না করার বিষয়ে স্থিতাবস্থা দেন আদালত। তাদের ডিলারশিপের মেয়াদ ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও জুন পর্যন্ত থাকায় ওই সময় পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে বুধবার চেম্বার আদালতে শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্টের দেয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করা হয় এবং রুল নিষ্পত্তির জন্য মামলাটি আবার হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী একরামুল হক টুটুল বলেন, সার ডিলারশিপ ও সার বিতরণ নীতিমালা-২০২৬-এর ৩.১.১ ধারায় একই অন্নে বা পরিবারে বসবাসরত স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনীদের ডিলারশিপ নেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঠাকুরগাঁওয়ের এক দম্পতি হাইকোর্টে রিট করেছিল বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ থাকার সুযোগ থাকায় সার ব্যবসায় পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ২০০৯ সালের নীতিমালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলার হওয়ার ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধা ছিল না। এর সুযোগে বিভিন্ন সময়ে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য, এ ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে নীতিমালা সংশোধন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট প্রণীত নতুন নীতিমালাতেও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ডিলারশিপ নেয়ার সুযোগ বন্ধের বিধান রাখা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০২৫ সালের সংশোধনের বিরুদ্ধে করা রিটে হাইকোর্ট ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাকে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা বলেন, একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তির ডিলারশিপ নেয়ার সুযোগ বন্ধ করার মাধ্যমে ডিলারশিপ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের কাছে সারের সঠিক ও সুষম বিতরণ নিশ্চিত করাই নতুন বিধানের লক্ষ্য। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা আকতার জুঁই ও মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একরামুল হক টুটুল।