
- ডিএসইতে সূচক বেড়েছে ৩৯ পয়েন্ট
- লেনদেন ৬০৫ কোটি টাকা
- সিএসইতে ক্যাসপি বেড়েছে ১০০ পয়েন্ট
টানা কয়েক কার্যদিবসে দরপতনের পর গতকাল বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে উঠেছে। একই সাথে বেড়েছে ডিএসইর অন্য প্রধান সূচকগুলোও। দিন শেষে মোট লেনদেন হয়েছে ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এক লাখ ৭২ হাজার ৫৭২টি লেনদেনে ১৯ কোটি ৪১ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।
অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকে উত্থান হয়েছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ক্যাসপি ১০০ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসআই বেড়েছে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
ঢাকায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শেয়ারের দর বেড়েছে : ডিএসইর দিনের বাজারচিত্রে ক্রেতাদের সক্রিয়তা স্পষ্ট হয়েছে। ৩২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১৯১টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দর। ডিএসইর প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএস৩০ ১৯ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৯৬ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস ১১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬ দশমিক ০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনেও বেশির ভাগ খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বস্ত্র খাতের সূচক প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন ১ দশমিক ৮ শতাংশ, প্রকৌশল ১ দশমিক ৭ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। বিবিধ খাতও ২ দশমিক ২ শতাংশ এগিয়েছে। বিপরীতে মিউচুয়াল ফান্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে চাপ ছিল।
দিনের লেনদেনে উল্লেখযোগ্যভাবে সক্রিয় ছিল বস্ত্র ও শিল্প খাতের কয়েকটি শেয়ার। সামাটালেথ, ইস্টার্ন টিউবস, বিএসআরএম স্টিল, বিএসআরএম লিমিটেড ও সাইহাম টেক্সটাইলসহ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে।
দরপতনের পর ‘বটম ফিশিং’ : বাজারের গতকালের উত্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক দরপতনের পর অপেক্ষাকৃত কম দামে শেয়ার কেনার প্রবণতাকে দেখা হচ্ছে। দিনের শুরুতেই আর্থিক খাতের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিনের দরপতনের পর কিছু বিনিয়োগকারী তুলনামূলক আকর্ষণীয় দামে নেমে আসা শেয়ারে কেনাকাটা শুরু করেন। তবে কোম্পানিগুলোর আয়, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
সকালের প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা। ওই সময় ২৮১টি কোম্পানির দর বাড়লেও মাত্র ৩৪টির দর কমে। এতে দিনের শুরুতেই বাজারে শক্তিশালী ক্রয়চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে শুধু সূচকের উত্থানকে বাজারে স্থায়ী পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ গত কয়েক কার্যদিবসে বাজারে উল্লেখযোগ্য বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে আজকের উত্থানের একটি অংশকে স্বাভাবিক কারেকশনের পর ‘টেকনিক্যাল বাউন্স’ হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।
চট্টগ্রামে সূচক বাড়লেও লেনদেন দুর্বল : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের উত্থান হলেও বাজারের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ক্যাসপি ১৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে উঠেছে, আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ১০০ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।
তবে আগের দিনের তুলনায় সিএসইর লেনদেনের পরিমাণ ছিল সীমিত। ৬ অক্টোবর সিএসইতে এক হাজার ৩৭টি ট্রেডে প্রায় ২৫ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার হাতবদল এবং মোট লেনদেন ছিল ১৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
এটি ঢাকার বাজারের সাথে চট্টগ্রামের বাজারের তারল্যের বড় পার্থক্য তুলে ধরে। ফলে সিএসইতে সূচকের উত্থান হলেও সেটিকে বাজারজুড়ে শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রবাহের প্রতিফলন বলা কঠিন।
সামনে মূল পরীক্ষা লেনদেন ও মৌল ভিত্তি : বাজারের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- এ দিনের উত্থান আগামী কয়েক দিনে টিকে থাকে কি না। ডিএসইতে ৬০৫ কোটি টাকার কাছাকাছি লেনদেন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও এর বড় অংশ যদি স্বল্পমেয়াদি দরকষাকষি ও নিম্নমূল্যের শেয়ারে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে সূচকের এই উত্থান স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশেষ করে সামনে বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশ ঘোষণার মৌসুম শুরু হচ্ছে। ডিএসইর নোটিশেও কয়েকটি কোম্পানির সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন এবং জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী নিয়ে বোর্ড সভার তথ্য এসেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে কোম্পানির প্রকৃত আয়, মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহন, উৎপাদন, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, ইস্পাতসহ জ্বালানিনির্ভর খাতগুলোর ব্যয় বাড়লে তাদের মুনাফায় চাপ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে কিছু রফতানিমুখী ও মূল্যনির্ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে।
সবমিলিয়ে, বুধবারের বাজারে আতঙ্কের বিক্রি কিছুটা থেমে ক্রেতারা ফিরে এসেছেন- এটি ইতিবাচক সঙ্কেত। কিন্তু বাজারের দীর্ঘমেয়াদি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য শুধু সূচকের উত্থান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক লেনদেন বৃদ্ধি, মৌল ভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ, আস্থার উন্নতি এবং কারসাজি ও গুজবনির্ভর লেনদেন নিয়ন্ত্রণ। ডিএসইও বিনিয়োগকারীদের গুজব এড়িয়ে কোম্পানির মৌল ভিত্তি, প্রকাশিত তথ্য ও মূল্যস্তর বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








