শাপলা চত্বরে গণহত্যা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল

 নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পর আগামী ১ নভেম্বর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। এ দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সময়ের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এতে কোনো আপত্তি জানায়নি। পরে ট্রাইব্যুনাল শুনানি পিছিয়ে ১ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানির সময় মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তারফদার, ফারুক আহমেদ, জহিরুল আমিন, মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন মাহমুদ।
এ তালিকায় আরো রয়েছেন- গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক র‌্যাব মহাপরিচালক মো: মোখলেসুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লে. জেনারেল মো: মুজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (হেডকোয়ার্টার্স/অ্যাডমিন) মো: আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো: আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বি এম ফারমান আলী।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ৩০ পলাতক আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ অন্যদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দু’টি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। নির্ধারিত সময়ে তারা আত্মসমর্পণ না করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়।
পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাদের পলাতক হিসেবে গণ্য করেন। একই সাথে রাষ্ট্রের খরচে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছিল।
এর আগে গত ২৭ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সাথে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়। মামলায় ৪১ আসামির বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ১ নভেম্বর এসব অভিযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

Advertisement