মাধবদীতে জুট মিলের ২১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

নরসিংদীর মাধবদীতে বন্ধ থাকা একটি রফতানিমুখী জুট মিল থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন-সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম খুলে নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে মিলটির প্রায় ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্কাইল্যান্ড অ্যান্ড ফ্যাম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে মো: আদর নামে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাও রয়েছেন। গতকাল বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মাধবদীর শিলমান্দি ইউনিয়নের আহমেদনগরে অবস্থিত স্কাইল্যান্ড অ্যান্ড ফ্যাম লিমিটেড শত ভাগ রফতানিমুখী পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। অগ্রণী ব্যাংকের দিলকুশা শাখার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত মিলটি ২০০৩ সালে তৎকালীন পাটমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয়। আর্থিক সঙ্কটের কারণে গত ছয় মাস ধরে এর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
মিলটি পুনরায় চালু করতে সরকারি উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ চলছিল বলে জানান মহিউদ্দিন। তার দাবি, মিলটি চালু হলে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতো।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী মো: আদিল মিয়া, তার দুই ছেলে আকাশ ও আশিক, মেয়ের জামাতা মো: লাজমিল হোসেন স্নেহ এবং বড় ভাই মো: আদরসহ ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিলে ঢোকে। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখায় এবং দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে এক দিন আটকে রাখে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মহিউদ্দিনের ভাষ্য, এরপর দিন-রাত ট্রাকে করে মিলের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বিক্রি করা হয়। এসবের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা এবং ক্রয়মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে দাবি তার।
মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার আগে গত ৪ আগস্ট মাধবদী থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। পরে ৩ অক্টোবর অনলাইনে জিডি করা হয়। তার দাবি, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনকে জানানো হলে তিনি দুই স্থানীয় নেতাকে যন্ত্রপাতি বিক্রি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব দেন। তাদের একজন মিল পরিদর্শন করলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে আরো কিছু ব্যক্তি মিলের ভেতরে অবস্থান করে টিন, লোহা, অ্যাঙ্গেল, ইট-বালুসহ স্থাপনার বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিলের সম্পদ রক্ষা, ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন মহিউদ্দিন। অভিযুক্ত মো: আদিল মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।