বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যকে (ভিসি) জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ তুলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মবতন্ত্র’ কায়েমের অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। একই সাথে ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বুধবার এক বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পরপরই ‘মব কালচার’ শেষ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তার বিপরীত বলে দাবি করেন তিনি।
সাদিকের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর এবার রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ঘেরাও করে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছে। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়ও এসেছে। তার অভিযোগ, জিয়া মঞ্চের মহানগর সভাপতি কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালামকে ভিসির কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়ার সময় দেখা গেছে।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে এভাবে ৪০-৫০ জন সরকারি দলের ক্যাডার মিলে জোর করে পদত্যাগ করানো নজিরবিহীন একটি ঘটনা।’ তবে তার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পেছনে ঠিকাদারি কাজ ও টেন্ডারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অসন্তোষ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসু ভিপি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুমতি নিয়ে নিতে হবে?
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ও টেন্ডার নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার ভাষায়, ভিসির পদত্যাগ যদি রাজনৈতিক চাপ, ঘেরাও ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করা যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা কতটুকু থাকে- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সাদিক কায়েম আরো বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা তাকে হতবাক করেছে। তার প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পগুলো কি শেষ পর্যন্ত সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ‘ভোগদখলে’ যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়া হচ্ছে? বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মববাজি’ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো সভ্য সমাজের আচরণ হতে পারে না। এর আগে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গও বিবৃতিতে তুলে ধরেন ডাকসু ভিপি। তিনি অভিযোগ করেন, গত সপ্তাহে রাড্ডা ক্লিনিকে বিএনপির একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ইন্ধনে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তার দাবি, দখল, লুটপাট, হামলা ও মবের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এগুলো ‘সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত’।
এসব ঘটনায় পুলিশ ও বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাদিকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে পুলিশ ও বিচার বিভাগ নির্লিপ্ত থেকে কার্যত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বিবৃতির শেষ দিকে বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সতেরো বছর ধরে ক্ষুধার্ত বিএনপি এখন পারলে যেন পুরো বাংলাদেশকেই গিলে ফেলে।’