নভেম্বরে শুরু হচ্ছে তিন মাসের ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল’

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

আগামী ১ নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী (৯০ দিনের) পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬। দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো আয়োজিত  এই কার্নিভাল আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবনসংলগ্ন বিস্তৃত প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় আয়োজিত এ কার্নিভালে দিন ও রাতে পর্যটকদের জন্য থাকছে নানা ধরনের বিনোদন, খেলাধুলা, খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক কার্যক্রম।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চেয়ারম্যান মো: সামীমুজ্জামান। এ সময় জানানো হয়, কক্সবাজারে প্রতি বছর দেশী পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বিদেশীদের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়ছে না। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ- সমুদ্রসৈকত উপভোগের পর বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সুযোগ সীমিত। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রথমবারের মতো তিন মাসব্যাপী দিন-রাতের নানা আয়োজন নিয়ে এ কার্নিভালের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কার্নিভালে থাকছে ফুড জোন, মার্কেট জোন, ক্র্যাফট ভিলেজ, ওয়েলনেস জোন, কিডস জোন ও ক্যাম্পিং জোন। ফুড জোনে দেশী-বিদেশী খাবার, লাইভ ফুড স্টল, বারবিকিউ, আইসক্রিম ও জুসের আয়োজন থাকবে। মার্কেট জোন ও ক্র্যাফট ভিলেজে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্য এবং স্থানীয় কারিগরদের হাতে তৈরি বিভিন্ন শিল্পপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। ওয়েলনেস জোনে সূর্যোদয়ের সাথে যোগব্যায়াম ও মেডিটেশনের আয়োজন করা হবে। শিশুদের জন্য কিডস জোনে থাকবে আর্ট, নিরাপদ রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম। ক্যাম্পিং জোনে থাকছে নাইট-স্টে ক্যাম্পিং, ওপেন-স্কাই লাইব্রেরি, সেলফ-বারবিকিউ, হ্যামক, ক্যাম্পফায়ার ও টেলিস্কোপে তারাভরা আকাশ দেখার সুযোগ।
এ ছাড়া থাকবে লাইভ আর্ট ও ফটো গ্যালারি, ওপেন-স্কাই মুভি থিয়েটার, ভিআর জোন, সার্কাস টেন্ট, কায়াকিং, লাইভ বাস্কিং, গো-কার্ট, বিচ ফুটবল, বিচ হ্যান্ডবল, বিচ ভলিবল, বিচ কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও স্যান্ড স্কাল্পচার। বিশেষ দিনগুলোতে বিজয় দিবস, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে থাকছে বিশেষ আয়োজন। পাশাপাশি বিচ ভিউ ওপেন থিয়েটারে ‘ওয়েভ অব মিউজিক’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানে সমুদ্রের সামনে সূর্যাস্তের আবহে সঙ্গীত উপভোগের সুযোগ থাকবে। ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো: গনী উল আজম। তিনি বলেন, আমরা শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চাই না, চাই কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হোক। সমুদ্র থাকবে, সূর্যাস্ত থাকবে, ঝাউবন থাকবে- এর সাথে যুক্ত হবে খাবার, সঙ্গীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক বিনোদন। কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব, বৃহত্তর কক্সবাজার অঞ্চলের এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
কার্নিভাল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাদেকুল আরেফিন পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে কার্নিভালের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারকে আরো বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়ভাবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশী পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এ আয়োজন কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতার দ্বার উন্মোচন করবে।
চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, তিন মাসের এ আয়োজনের ফলে পর্যটকরা সমুদ্র উপভোগের পাশাপাশি দিন ও রাতে বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। একই সাথে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে। কক্সবাজারকে একটি প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময়, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুনভাবে ব্র্যান্ডিং করতে এই কার্নিভাল আয়োজন করা হচ্ছে। 
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক, মহাব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।