তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ।

 গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

Advertisement

জমি নিয়ে বিরোধ, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, চিকিৎসা সহায়তা, পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যা নিয়ে আসা ৩৯ অসহায়, হতদরিদ্র ও রোগাক্রান্ত মানুষের কথা সরাসরি শুনেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: নুরুল কবির ভূঁইয়া। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে তিনি ভুক্তভোগীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেন।
গণশুনানিতে দেখা যায়, গুরুতর অসুস্থ কিংবা শারীরিকভাবে দুর্বল কোনো ব্যক্তি অফিসে প্রবেশ করলে জেলা প্রশাসক চেয়ার ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে তার কথা শুনছেন। ৬৫ বছর বয়সী অসুস্থ নাজমা আক্তার স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালে তিনি দাঁড়িয়ে তার কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। অসহায় মানুষের অভিযোগ শোনার ক্ষেত্রে তার এমন আন্তরিক আচরণ উপস্থিতদের নজর কাড়ে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর এলাকার ৭০ বছর বয়সী মো: আবদুল হাই পারিবারিক কবরস্থানের জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা দেয়ার অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, কবরস্থানের জন্য কেনা জমি থেকে পাঁচ শতক মসজিদের জন্য দান করেছেন এবং রাস্তার জন্যও জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় কাওছার বাধা দিচ্ছেন।
এ ছাড়া দাক্ষিণখান এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের জন্য জমি অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আসেন এক ভুক্তভোগী। তাকে না জানিয়ে বা কোনো নোটিশ না দিয়ে  অতি দ্রুততম সময়ে অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং গোপনে বিল তুলে নেয়াসহ নানা জালজালিয়াতির অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক বলেন, জমিটি প্রকৃতপক্ষে ভুক্তভোগীর হলে তিনি কেন ক্ষতিপূরণের বিল গ্রহণ করেননি, তা যাচাই করা হবে। অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৪, ৭ ও পরবর্তী ৮ ধারার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট নথি তলব করেন এবং তাকে না জানিয়ে সংশ্লিষ্ট এলএ কেসের আর কোন বিল কাউকে না দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। 
গার্মেন্টস শ্রমিক কামরুল হাসানসহ অন্য ভুক্তভোগীরাও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। দীপু রানী তার শ্বশুরের জমি থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, থ্যালাসেমিয়াসহ সাতটি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যোগ্য রোগীদের এ সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি। গণশুনানি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি প্রথমে সপ্তাহের প্রতি বুধবার গণশুনানির দিন ধার্য করেছিলাম। এটি চালু করার পর এখন প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এসে ভিড় করেন। আমাকে তাদের কথা শুনতে হয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত শুনে যথাসম্ভব তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছি।’
সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজন বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে সরাসরি নিজেদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের ঊর্ধŸতন কর্মকর্তারা সরাসরি মানুষের কথা শুনলে দালালনির্ভরতা ও সেবাপ্রাপ্তিতে হয়রানি কমার সুযোগ তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকাণ্ডেই সরকারের নীতি, আদর্শ ও জনসেবার প্রতিফলন ঘটে বলেও তারা মন্তব্য করেন।