
বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে অনুমোদিত ১১টি পদের বিপরীতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র চারজন। আরও দুজন রয়েছেন ডেপুটেশনে। দীর্ঘদিনের এ জনবল সংকটে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ১২ হাজার খামারি ও কৃষককে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে দফতরটি।
দফতর সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে জনবল সংকট চলছে। পশু-পাখির চিকিৎসা, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খামার ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সরকারি টিকাদান কর্মসূচি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ, উঠানবৈঠক ও মাঠ পরিদর্শন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সীমিত জনবল দিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবেলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ড্রেসার পদে কর্মরত দুজন দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে থাকায় দফতরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে বিদ্যমান কর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন খামারি ও পশুপালক চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য দফতরে আসেন। সীমিত জনবল দিয়ে তাদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা দেয়া কঠিন। তবে কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় জনবল থাকায় এ সেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
পৌরসভার সোনাপাতিল মহল্লার ছাগল খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, দফতর থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। কার্যক্রম আরো জোরদার হলে খামার সম্প্রসারণে উৎসাহ বাড়ত। মুরাদপুর এলাকার গরুর খামারি আনিসুর রহমান বলেন, জনবল সঙ্কট দ্রুত দূর করে খামারিদের সময়মতো সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: রোকনুজ্জামান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) পদসহ বেশিরভাগ পদে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সঙ্কট রয়েছে। সঙ্কট নিরসনে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনবল সঙ্কট দূর হলে জনগণের দোরগোড়ায় আরো কার্যকর প্রাণিসম্পদ সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








