
ইসরাইলের বিরোধী দলগুলোকে আরব দলগুলোর সাথে জোট গড়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন তেল আবিবের হাজারো বিক্ষোভকারী। তাঁদের মতে, দেশটির রাজনীতিতে সত্যিকার পরিবর্তন আনার এটাই হয়তো ‘শেষ সুযোগ’।
শনিবারের এই বিক্ষোভের খবর জানিয়েছে আল জাজিরা (১ নভেম্বর)। আগের দিন, শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে সমবেত বিক্ষোভকারীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একজন ‘বড় ধরনের কূটকৌশলী’। তাঁরা মনে করেন, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী দলগুলোর এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার।
ইসরাইলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট এর আগে আরব দলগুলোর সাথে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি নুর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে বলেন, ‘মানুষ সত্যিই চায় পরিবর্তনের জন্য দেয়া এই ভোট সফল হোক। তারা বিশ্বাস করে, গাদি আইজেনকটসহ ইহুদি-ইসরাইলি দলগুলোর নেতাদের তাঁদের কথা শুনতে হবে।’
তবে একই দিনে বিক্ষোভের পাল্টা কর্মসূচি পালন করেন নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও। তাঁরা স্লোগান দেন, ‘ইসরাইলের সরকারে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।’
মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি। ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
ইসরাইলের আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল নির্বাচনে মোট ১৯টি আসন পেয়েছে। আগের নির্বাচনের তুলনায় তাদের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির হিসাব অনুযায়ী, রা'আম ও তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দলের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্টের পক্ষে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট ৬৪ শতাংশ বেশি।
এই তিন দলের সমর্থন পেলে আইজেনকটের জোটের আসন দাঁড়াবে ৬৭টিতে। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাঁর আর কোনো বাধা থাকবে না। তবে আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠনের বিষয়টি ইসরাইলের অনেকের কাছে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলো নির্বাচনে ‘কারচুপি’ করেছে এবং এ কাজে কাতার অর্থ যুগিয়েছে।। কাতার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে অপতথ্য ছড়ানোর প্রচারণা বলে উল্লেখ করেছে।
নুর ওদেহ বলেন, ইসরাইলের ডানপন্থী মহল ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের নির্বাচনে নজিরবিহীন অংশগ্রহণকে ‘নির্বাচনী সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি একে ৭ অক্টোবরের হামলার সাথে তুলনা করছে। ওই দিন হামাসের নেতৃত্বে যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা এবং কয়েক শ মানুষকে পণবন্দি করে নিয়ে যায়।
ওদেহর ভাষায়, ‘ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর’ এখন আক্রমণের মুখে। কারণ, আইজেনকট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








