বিজয়ের আশায় ফ্লাভিও ও লুলা
বিজয়ের আশায় ফ্লাভিও ও লুলা।

বিবিসি ও রয়টার্স
ব্রাজিলের পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান কে হচ্ছেন-তার নির্ধারণ প্রথম ধাপের ভোটে মেলেনি।  রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের সমীকরণ স্পর্শ করতে না পারায় নির্বাচন গড়িয়েছে দ্বিতীয় ধাপে। আগামী ২৫ অক্টোবর রানঅফ ভোটে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির নাগরিকেরা।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখোমুখি হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ৪৫ বছর বয়সী ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। ভোট গণনার অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীর মধ্যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়েছে। চূড়ান্ত গণনা শুরুর মুখে ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৭.২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, আর লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৪.৯১ শতাংশ ভোট। গণনা বাকি থাকা ভোটের ভিত্তিতেও ৫০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব নয় দেখে প্রথম ধাপেই চূড়ান্ত ফলাফলের সমাপ্তি ঘটেনি। ফলে দ্বিতীয় পর্বের মুখোমুখি লড়াইয়ের জন্য অপেক্ষা এখন দুই পক্ষেরই।
প্রথম ধাপের ভোটে পিছিয়ে থাকাকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখলেও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী প্রেসিডেন্ট লুলা। রবিবার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রথম ধাপেই জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাত্র শুরু হচ্ছে। খেলার অতিরিক্ত সময়ে এসে জনগণের আস্থা অর্জন করে নেয়ার কথা জানান এ বর্ষীয়ান নেতা। অন্য দিকে, প্রথম ধাপে এগিয়ে থেকে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। প্রতিক্রিয়ায় এ সিনেটর জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্রাজিলের মানুষ আধুনিক সরকার গঠনের সুযোগ পাবে এবং সে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ধাপে ফ্লাভিওর পারফরম্যান্স প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং রানঅফে তার অবস্থান বেশ শক্ত। জয় পেলে বাবার উত্তরসূরি হিসেবেই তিনি ক্ষমতার মসনদে বসবেন। উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে পরাজিত করেই ক্ষমতায় এসেছিলেন লুলা। পরাজয়ের পর ঘটে যাওয়া অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে জইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থার জোয়ার দেখা যাচ্ছে, যার পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের প্রভাবও দৃশ্যমান। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল সে ধারায় যুক্ত হবে নাকি ভিন্ন পথ বেছে নেবে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী রানঅফেই।

Advertisement