ছয় মাসেও শেষ হয়নি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক সংস্কার
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়কের বেহাল দশা : নয়া দিগন্ত।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের জন্য এক কোটি ৪৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়। তবে পরে সফরসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় কাজ থেমে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ট্রাক্টর দিয়ে পুরনো সড়ক ভেঙে রোলার চালানো হয়। বাকি দেড় কিলোমিটার অংশে গর্তে পিচ দিয়ে ভরাট করা ছাড়া বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ত্রিশাল জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কটি ময়মনসিংহ ও ভালুকার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। সংস্কারকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় কোথাও নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ি করা অংশ, আবার কোথাও পুরনো খানাখন্দযুক্ত সড়ক থাকায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানি জমছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বরাদ্দের পর কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ না করায় সড়কটির অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ময়মনসিংহের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ছাত্র প্রতিনিধি দেবদূত কর তীর্থ বলেন, বরাদ্দের অর্থে শুরু হওয়া কাজ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কাজের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ হাসনাত জাহান খান বলেন, সড়কটির টেন্ডার হয়েছিল। কোনো কারণে সেটি বাতিল হয়েছে। পুনরায় টেন্ডার করা হবে। বরাদ্দ ফেরত যায়নি; কাজটি বর্তমানে পেন্ডিং রয়েছে।
এ বিষয়ে ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের সাথে মুঠোফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত পুনঃদরপত্র আহ্বান করে টেকসইভাবে সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement