
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে পালটা আক্রমণে নতুন অস্ত্র ও নতুন লক্ষ্যবস্তু ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গতকাল সোমবার আইআরজিসির এক মুখপাত্র এ হুঁশিয়ারি দেন। মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা করলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পালটা হামলার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, নতুন সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হবে, যা দেখে পুরো বিশ্ব অবাক হবে। তিনি আরো বলেন, আগের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো এবার একই নাও থাকতে পারে। এমন কিছু নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোতে এখনো কোনো হামলা হয়নি। একইসাথে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্যও আইআরজিসি প্রস্তুত বলে দাবি করেন তিনি। মেহের নিউজ।
আইআরজিসি মুখপাত্র তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের পরিকল্পনাগুলো ইরানি প্রতিরোধের মুখে চূড়ান্তভাবে ধসে পড়েছে। সামরিক পরিভাষায় মার্কিন বাহিনীর এই পিছু হঠাকে ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয় উল্লেখ করে মোহেব্বি বলেন, মার্কিন নেতৃত্ব নিজেদের সামরিক শক্তির অহঙ্কার ধরে রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরাভব স্বীকার করার সাহস দেখাচ্ছে না। অথচ তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরাই এখন প্রকাশ্যে মার্কিন কৌশলের দৈন্যদশা ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করছেন।
রণাঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ব্যর্থতা তুলে ধরে মোহেব্বি বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসন ও বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের সরাসরি ফল হিসেবেই এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটি বন্ধ হয়ে যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশাল নৌবহর ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজের বহর নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং তথাকথিত নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার দোহাই দিলেও, তারা শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, পারস্য উপসাগর ও আশেপাশের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কার্যকারিতা এখন শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে।
মার্কিন প্রশাসনের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগের সম্ভাবনাও সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন জেনারেল মোহেব্বি। তিনি জানান, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী আইআরজিসি একটি সামরিক ও প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং এর দায়িত্ব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। মার্কিন কোনো প্রতিনিধি বা সংস্থার সাথে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল না এবং ভবিষ্যতেও কূটনীতির বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। পররাষ্ট্র বিষয়ক সব সিদ্ধান্ত কেবল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপরই ন্যস্ত।
সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুদ্ধ শুরুর আগে এবং চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের ভেতরেই এমন কিছু যুগান্তকারী ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরি করে রাখা হয়েছে, যা শত্রুর যেকোনো সামরিক সমীকরণ ভেঙে চুরমার করে দিতে সক্ষম। ইরানের এই গোপন কৌশলগত সম্পদ কেবল উপযুক্ত সময় ও প্রয়োজনের ভিত্তিতেই ময়দানে নামানো হবে।
গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই কিছুটা কমে এসেছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের বিচ্ছিন্ন হামলা এখনো চলছে। চাপ সৃষ্টির জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দুই পক্ষই পালটাপালটি অবরোধ বজায় রেখেছে।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সঙ্ঘাত কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌবাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পেজেশকিয়ানের নিউ ইয়র্ক সফর এবং ট্রাম্পের সাথে সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে আগামী দিনগুলোতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গতিপথের দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
২ মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউ-১’ ড্রোন এবং একটি উন্নত ‘অরবিটার’ নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। গতকাল সোমবার সকালে ইসলামী রিভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ‘সন্ত্রাসবাদী’ মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরেকটি এমকিউ-১ ড্রোন কিছুক্ষণ আগে হরমুজ প্রণালীর আকাশে শনাক্ত করার পর ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের তৈরি একটি নতুন উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে এই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








