জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ বাড়বে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সরকারের সিদ্ধান্তকে জনবিরোধী উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। গতকাল পৃথক পৃথক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ যখন এমনিতেই দিশেহারা, তখন নতুন করে এই দাম বৃদ্ধি জনজীবনে তীব্র সঙ্কট সৃষ্টি করবে এবং দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। নেতারা অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিবাদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং সংসার চালাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একলাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠবে।
তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল মোটরযান ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি পরিবহন, কৃষি উৎপাদন, কলকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ সরাসরি বাড়িয়ে দেবে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা হলেও বারবার দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্বেগ 
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার এক যৌথ বিবৃতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নেতারা কয়েক মাসের ব্যবধানে বারবার দাম বাড়ানোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরবর্তীতে জুনে অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম আরো ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। সবশেষ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই নতুন করে লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
তারা বলেন, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি, পণ্য পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন খাত মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। নেতারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া ও বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করা এবং কৃষি ও পরিবহন খাতে সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ক্ষোভ
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমিরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমী, নায়েবে আমির শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার সর্বস্তরে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা না করে নেয়া এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী। অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পথ পরিহার করে অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান দলটির নেতারা।