প্রাথমিক শিক্ষা : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
প্রাথমিক শিক্ষা : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

সেদিন অলস দৃষ্টিতে পত্রিকার শিরোনামে চোখ বুলাতে গিয়ে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে’ একটি খবরে নজর আটকে যায়। কয়েক মাস আগে গাঁয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। দেখলাম, প্রধান শিক্ষকের পৃথক কক্ষ। কক্ষের পাশে শিক্ষার্থীদের কমনরুম। কমনরুমে দেয়ালের সাথে চারটি বেসিন। বাইরের টিউবওয়েল থেকে পানি এনে বেসিনে হাত-মুখ ধোয়ার কাজ করতে হয়। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবদার, উপরে ট্যাংকি বসিয়ে মোটরে পানি উত্তোলন করতে পারলে শিক্ষার্থীদের টিউবওয়েলে দৌড়াতে হয় না। আমি থাকতে থাকতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হয়ে যায়। 

Advertisement

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আধুনিকতার দাবি দেখে মনে পড়ে আমার শৈশবের কথা। এ স্কুলে আমিও পড়েছিলাম। আমার শৈশবের স্কুলে একটি ভাঙা কাঠের আলমারি, তিনটি টেবিল, তিনটি চেয়ার, তিন জোড়া টুল ছাড়া আর কিছু ছিল না। বসার বেঞ্চকে আমরা টুল বলতাম। হাইবেঞ্চ ছিল না একটিও। পরীক্ষার সময় বাড়ি থেকে জলচৌকি বা উঁচু পিঁড়ি নিয়ে যেতাম। চৌকি বা পিঁড়িতে বসে টুলের ওপর খাতা নিয়ে লেখতাম। হাতে থাকত বাঁশের কঞ্চির বানানো কলম, পাশে থাকত কালির দোয়াত। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে শেষ হয়ে যেত দোয়াতের কালি। কালি শুধু পরীক্ষার খাতায় লাগত না, পরীক্ষার্থীর হাত-মুখসহ জামা-কাপড়েও লাগত। তিনজন শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক স্কুলে থাকতেন। সরকার বাড়ি থেকে তার খাবার পাঠানো হতো। ধর্ম স্যার আসছেন পাঁচ মাইল দূরের গ্রাম থেকে। তিনি গ্রামের মসজিদে ইমামতিসহ সকালে মক্তব চালাতেন। অঙ্ক শিক্ষক গ্রামের, কেন যেন মনে হয়েছিল গ্রামের শিক্ষক গ্রামে না থাকাই ভালো। 

‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে’ শিরোনামের শুরুতে লেখা ছিল, ‘চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গত কয়েক বছরে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে। এ সময়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে মাদরাসা ও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে গ্রাম-গঞ্জে অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন তথা কেজি স্কুল প্রতিষ্ঠাও একটি কারণ।

মধ্যবিত্ত অভিভাবকরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিয়ে তারা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। এজন্য সন্তানদের তারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করছেন। অন্যদিকে দরিদ্র অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খরচ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তারা তাদের সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন।

দেশে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষার উন্নয়নে কয়েক বছর আগেও বেশ কিছু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছে সরকার। শুধু তাই নয়, বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে বই বিতরণ করে উৎসব পালন করছে। সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের উপকরণ কেনা বাবদ দেয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। এছাড়াও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়া হয়েছে সুসজ্জিত একাডেমিক ভবন। বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, ক্ষুদ্র মেরামত ও প্লে-শ্রেণীর কক্ষ সজ্জিতকরণ এবং শিক্ষা উপকরণ কেনার পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রয়েছে একেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পাশাপাশি পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষকও নিয়োগ রয়েছেন। এর পরও শিক্ষার্থী কমছে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

দেশ বিভাগের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাসিক বেতন ছিল ২৮-৩২ টাকা। তখন প্রাইমারি পাস করে জিটি ট্রেনিং দিয়ে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করা যেত। এ বেতনের জন্যও মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। ২০২৬ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা (দশম গ্রেড) সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা (১৩তম গ্রেড) সর্বোচ্চ মূল বেতন ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। গত ২১ অক্টোবর পত্রিকার পাতায় চোখ পড়তে দেখি ‘১১তম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা’।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ রয়েছে, ‘এদিকে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো জবাবদিহি নেই। চাকরি স্থায়ী হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ববোধের চেয়ে এক ধরনের উদাসীনতা বেশি কাজ করে, যা তাদের ক্লাসে অনিয়মিত করে তোলে। এমনকি নামমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করায় অনেকের মেধা ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। অনেকে এসএসসি বা এইচএসসি পাস করে ঢুকে পড়েছেন এই চাকরিতে। সেক্ষেত্রে দুর্বল মেধার একটি প্রশ্নও থেকে যায়। সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
অভিভাবকরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নিয়মিত নজরদারি না থাকায় শিক্ষকরা পাঠদানকে স্রেফ চাকরি বাঁচানোর হাতিয়ার বানিয়েছেন। ফলে দিন দিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকছে। এ দুরবস্থার কারণে সাধারণ অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে বাড়তি অর্থ গুনে সন্তানদের কেজি স্কুলে পাঠাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটা করুণ যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা খোদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নিজেদের সন্তানদের এই সরকারি স্কুলে পড়াচ্ছেন না। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এখন ‘গরিবের সন্তানদের স্কুলে’ পরিণত হয়েছে।

২০২২ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত ইউরোপ ছিলাম। বিদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখার শখ অনেক দিনের। কারণ, আমার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা পেশা দিয়ে। ফ্রান্সে অবস্থিত মেঝো মেয়ের ছোট মেয়ে ইভা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। মেঝো মেয়েসহ ১০ মে ইভার স্কুল দেখতে গিয়েছিলাম। স্কুলের গেটে লেখা আছে অলওয়েস সিমস ইমপসিবল আনটিল ইট ইস ডান (নেলসন ম্যান্ডেলার উক্তি)। স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে বিস্মিত হই। আমাদের দেশে শতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আমার ধারণা অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ পরিমাণ জমি নেই, যে পরিমাণ জমি আছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুধু লাইব্রেরি কক্ষের আয়োজন ছয় হাজার বর্গফুটের বেশি। ইভার ক্লাস দোতলায়। শ্রেণীকক্ষের ভেতরে সামনের দেয়ালে শিশুদের আঁকা বিভিন্ন ধরনের পেইন্টিং। প্রতি দু’জনের জন্য আলাদা বেঞ্চ। হাই বেঞ্চে প্রত্যেকের জন্য আছে আলাদা ড্রয়ার। দুপুরের খাবার স্কুলে দেয়া হয়। বিনোদন লেখাপড়া সব স্কুলে। নানা প্রকারের রাইডসহ খেলার মাঠ। পাশে পাঠাগার। শিশু উপযোগী সব বই আছে পাঠাগারে। বই ছাড়াও আছে অঙ্কনের জন্য নানা প্রকারের সরঞ্জাম। বাশিল, কাঁথা-কম্বলও আছে। পড়তে পড়তে কিংবা অঙ্কন করতে করতে কেউ ঘুমিয়ে গেলেও সমস্যা হয় না। ঘুম ভাঙলে শুরু হবে অঙ্কন। শিশুদের অঙ্কনে আগ্রহ দেখে মনে মনে বলি, এ কারণে এ দেশে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিদের জন্ম হয়েছিল। 

আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে সুইডেন স্বীকৃত। সুইডেনের এ অসামান্য অর্জনের পেছনে আছে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিবান্ধব পরিবেশ। ইউরোপ থাকাকালে সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়সহ লাইব্রেরি দেখেছি। দেখার ইচ্ছা ছিল সুইডেনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। সুইডেন প্রবাসী আমার ছোট মেয়ের একমাত্র কন্যা, যার জন্ম ৫ মে ২০২৫। এক বছর বয়স থেকে স্কুলে নেয়া শুরু হয়েছে। এক বছরের শিশুকে কী পড়ানো হয় স্কুলে? জানতে চাই মেয়ের কাছে। মেয়ের কাছে যা জানা যায়—
‘ছোট শিশুদের ঘরে একটি সাদা রঙের ছোট্ট বাক্স থাকে। বাক্সটা নিয়ে শিশুদের বেশ আগ্রহ। কিন্তু বাক্সের চেয়েও মজার জিনিস হলো একটি তুলি আর একটুখানি আঠা। প্রথমে তুলি দিয়ে ছবি আঁকার চেষ্টা করে। পানি দিয়ে আঁকতে বেশ ভালো লাগছিল শিশুদের। কিন্তু যখন পানির বদলে সাদা আঠা দেয়া হলো, তখন শিশুদের আগ্রহ একটু কমে গেল। শিক্ষকরা ভাবলেন, ব্যাপারটা কী? তারপর তারা আঠার মধ্যে মিশিয়ে দিলেন নীল রং। ব্যস! আবার আগ্রহ ফিরে এলো। সাদা বাক্সের গায়ে নীল রঙের আঠা লাগানো যায়। তার ওপর লাগানো যায় নরম, পাতলা রঙিন কাগজ। অবশ্য কাজটা খুব সহজ নয়। কাগজ বাক্সে লাগানোর চেয়ে হাতে বেশি লেগে যায়। কয়েকটি শিশু হয়তো একটু বিরক্তও হয়। কিন্তু তাতে কী? সবকিছু তো আর প্রথম দিনে শিখে ফেলা যায় না।

শিশুরা বারবার চেষ্টা করে। কখনো কাগজ লাগে বাক্সে, কখনো হাতে। কখনো কাজটা ঠিকমতো হয়, কখনো হয় না। শিক্ষকরা তাদের পাশে থাকেন। তারা জানেন, একটি শিশুর নতুন কিছু শিখতে যতটা সময় লাগে, আরেকজনের ততটা লাগে না।

এদিকে ঘরের অন্য এক কোণে গল্পের ব্যাগ। লাল রঙের ব্যাগটা খুললে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে বই, খেলনা আর নানা মজার জিনিস। শিশুরা গোল হয়ে বসে। কে কী পেল, কোনো জিনিসটা কার ভালো লাগল— এসব নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়।

আসলে কথা বলা শেখার জন্য সবসময় বই খুলে বসতে হয় না। কখনো একটি খেলনা, কখনো একটি রঙিন কাগজ, কখনোবা একটি গল্পের ব্যাগই অনেক কথা বলিয়ে দেয়।

শিক্ষকরা চান, শিশুরা যেন কোনো কিছু করতে ভয় না পায়। জামাকাপড়ে আঠা লাগলে কী হবে? হাতে মাটি লাগলে কী হবে? নতুন কিছু জানতে হলে একটু নোঙরা হওয়া তো যেতেই পারে! তাই সামনে আরো আসবে মাটি নিয়ে খেলা। থাকবে নতুন নতুন উপকরণ, নতুন অভিজ্ঞতা।

এই ছোট্ট মানুষগুলো এখন পৃথিবীকে চিনতে শিখছে। তাদের কাছে একটি নীল রঙের আঠাও বিস্ময়ের বিষয়। আর শিক্ষকদের কাজ হলো— সেই বিস্ময়টুকু বাঁচিয়ে রাখা, যাতে আজ যে শিশু কাগজ হাতে নিয়ে দ্বিধায় দাঁড়িয়ে আছে, কাল সে-ই নিজের হাতে নতুন কিছু তৈরি করার সাহস পায়। প্রি-স্কুলে এখন শিশুদের ভাষা শেখা, একসাথে মেলামেশা করা এবং বিভিন্ন জিনিস নিয়ে খেলা ও পরীক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সহজ কথায়— শিশুরা যেন নিরাপদ ও আনন্দের পরিবেশে খেলার মাধ্যমে কথা বলা, অন্যদের সাথে মেলামেশা করা, নতুন জিনিস শেখা এবং নিজেরা বিভিন্ন বিষয় আবিষ্কার করতে পারে— এটিই এখন শিক্ষকদের মূল লক্ষ্য। 

‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমছে’-এই কমতে থাকা  নিঃসন্দেহে দেশ ও জাতির জন্য অশনি সঙ্কেত। কারণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেম না থাকলে একটি দেশের সমাজ, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামগ্রিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হবে। প্রাথমিক শিক্ষাই মানুষের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে। সিস্টেমটি না থাকলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে যেসব দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে, তা হলো— ব্যাপক নিরক্ষরতা ও ভাষাগত দক্ষতার অভাব। মৌলিক গাণিতিক ও যৌক্তিক দক্ষতার অভাব। সামাজিকীকরণ ও নৈতিকতার অবক্ষয়। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি। প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সমাপ্তি। স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব ও গড় আয়ু হ্রাস। বৈষম্য ও সুযোগের অসমতা। সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিস্টেম না থাকলে একটি সভ্য ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলা অসম্ভব এবং এর অভাবে মানবজাতি একটি অসভ্য, বিশৃঙ্খল ও অন্ধকার যুগের দিকে ধাবিত হবে।

লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক