মতামত
মতামত। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কেবল ইট-পাথর, কাচ আর ইস্পাতের তৈরি কোনো বিশাল বা ব্যয়বহুল স্থাপনা নয়; এটি সেই দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতি, আতিথেয়তা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার সবচেয়ে বড় আয়না। একজন ভিনদেশী পর্যটক, বিদেশী বিনিয়োগকারী কিংবা দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরা একজন নাগরিক যখন উড়োজাহাজ থেকে দেশের মাটিতে পা রাখেন, তখন ওই বিমানবন্দরের পরিবেশই তাকে প্রথম বলে দেয়— সামনের দিনগুলোতে এই দেশটি তাকে কিভাবে বরণ করে নিতে যাচ্ছে। একটি দেশের প্রথম এবং শেষ ছাপ বা ‘ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ইমপ্রেশন’ তৈরি হয় এই ট্রানজিট পয়েন্টেই। বাংলাদেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বছরের পর বছর ধরে যাত্রীদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগেজ বিড়ম্বনা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রলির জন্য হাহাকার, ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ সারি এবং পদে পদে চরম হয়রানি যেন এখানকার অলিখিত নিয়ম। 
সাম্প্রতিক সময়ে মদিনা থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চরম ভোগান্তির ঘটনা দেশের এভিয়েশন খাতের রুগ্ণ, জীর্ণ ও অমানবিক দশাকে নগ্নভাবে উন্মোচন করেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজ অবতরণের পর লাগেজ এবং জমজমের পানি হাতে পেতে যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা, এমনকি অন্তত ৩৫ জন সংসদ সদস্যও সেদিন এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনাকর্মকর্তাকে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ও রিমান্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঘটনার দায় হিসেবে বিমান কর্তৃপক্ষ কেবল তাদের দু’জন নিম্নপদের কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই পুরো দায়িত্ব শেষ করেছে।
ঠিক এখানেই একটি বড় কাঠামোগত ও নৈতিক প্রশ্ন সামনে চলে আসে। যখন পুরো একটি ব্যবস্থাপনা বা সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন তার দায়ভার কি কেবল মাঠপর্যায়ের দু’-একজন কর্মীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে শীর্ষ কর্তারা পার পেয়ে যেতে পারেন? ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগেজ বেল্টে না আসা, পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকা, যাত্রীদের সঠিক তথ্য না দেয়া— এগুলো কোনো একক ব্যক্তির ভুল বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা ও চরম অব্যবস্থাপনার এক নিখুঁত উদাহরণ। একজন যাত্রীর বিচার করা সরকারের জন্য একেবারে সহজ; কিন্তু ওই যাত্রীকে ক্ষুব্ধ করার পেছনে যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা রয়েছে, তার বিচার কে করবে?
বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সর্বোচ্চ ট্যাক্স বা শুল্ক গুনতে হয়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টিকিট কাটলে যে সারচার্জ বা কর দিতে হয়, ওই সব দেশ থেকে ঢাকার ফিরতি টিকিটে তার চেয়ে বহুগুণ কম কর দিতে হয়। যেমন— ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার টিকিটে ট্যাক্স প্রায় ৯ হাজার ৮৯০ টাকা, অথচ সেখান থেকে আসার সময় ট্যাক্স মাত্র দুই হাজার টাকার মতো। অর্থনীতি ও যুক্তির সাধারণ নিয়ম বলে, যে যাত্রী সবচেয়ে বেশি অর্থ দেবেন, তিনি সবচেয়ে উন্নত সেবা পাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উচ্চহারে কর দিয়েও আমাদের যাত্রীদের লোকাল বাসটার্মিনালের চেয়েও নিম্নমানের সেবা হজম করতে হচ্ছে। যাত্রীদের পকেট কেটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তাদের কোষাগার ভারী করছে ঠিকই; কিন্তু বিনিময়ে ন্যূনতম সেবাটুকুও তারা নিশ্চিত করতে পারছে না।
এ চরম অব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় শিকার হন আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, অমানবিক কষ্টে জীবনযাপন করে যারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সচল রেখেছেন, তারাই বিমানবন্দরে পা রেখে সবচেয়ে বেশি অবহেলা ও নিগ্রহের শিকার হন। বছরের পর বছর প্রবাসে থেকে বুকে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে তারা দেশে ফেরেন। কিন্তু বিমানবন্দরে পা রাখতেই সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ট্রলি মেলে না। বয়স্ক, অসুস্থ নারী বা শিশুরা দীর্ঘ ভ্রমণের পর একটু বসার জায়গাও পান না। এরপর শুরু হয় লাগেজ আতঙ্ক। লাগেজ কাটা পড়া, তালা ভাঙা থাকা, ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র, এমনকি জমজমের পানির মতো স্পর্শকাতর জিনিস চুরি হয়ে যাওয়া— এসব এখন নিত্যদিনের চিত্র। সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা যাত্রীদের লাগেজ কাটা এবং মালামাল চুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রমাণ করে, এই চোর চক্র কতটা বেপরোয়া। আর এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে উল্টো যাত্রীদেরই হেনস্তার শিকার হতে হয়, কখনো কখনো শারীরিক লাঞ্ছনার মুখেও পড়তে হয়।
উন্নত দেশগুলোতে বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও স্বতন্ত্র ‘এয়ারপোর্ট অথরিটি’ থাকে, যাদের হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকে এবং যারা সরাসরি যাত্রীদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। কিন্তু আমাদের শাহজালাল বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এখানে সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, এপিবিএন, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ প্রায় ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন সংস্থা কাজ করে। এদের প্রত্যেকের নিজস্ব কমান্ড চেইন ও কাজের পরিধি রয়েছে এবং এরা কেউই সরাসরি বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কাছে শতভাগ দায়বদ্ধ নয়। ফলে যখনই কোনো অঘটন ঘটে বা সেবার ঘাটতি দেখা দেয়, তখন এক সংস্থা আরেক সংস্থার ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে নেয়। ‘দায়িত্ব সবার, কিন্তু জবাবদিহি কারো নয়’—এটিই যেন বর্তমান বিমানবন্দর প্রশাসনের মূলমন্ত্র। তদুপরি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি একই সাথে নিয়ন্ত্রক সংস্থা (রেগুলেটর) এবং পরিচালক (অপারেটর) হিসেবে কাজ করায় স্বার্থের এক সঙ্ঘাত তৈরি হয়েছে, যা সেবার মানকে আরো তলানিতে নিয়ে গেছে।
জবাবদিহিহীন এই পরিবেশ দুর্নীতির এক উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এই জায়গাটি যেন ‘ডিম পাড়া সোনার হাঁস’ বা আলাদিনের চেরাগে পরিণত হয়েছে। এখানে কিছুদিন চাকরি করলেই অসাধু উপায়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার নজির ভূরি ভূরি। খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে, কখনো বা তাদেরই যোগসাজশে, বিমানের কর্মীদের জুতার ভেতর থেকে শুরু করে শরীরের নানা অংশে লুকিয়ে কোটি কোটি টাকার সোনা পাচারের ঘটনা আমরা দেখছি। সম্প্রতি দুবাইফেরত ফ্লাইটের দুই কর্মীর জুতা থেকে ১৬ কোটির বেশি টাকার সোনা উদ্ধার তারই প্রমাণ। শুধু চোরাচালান নয়, বিমানবন্দর কেন্দ্রিক মেগা প্রকল্পগুলো থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাগুলো প্রমাণ করে, এই খাতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কতটা পচন ধরেছে। এই লাগামহীন দুর্নীতির কারণেই যাত্রীসেবার মান উন্নত করার দিকে কারো কোনো আন্তরিক নজর নেই।
যাত্রীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা বিমানবন্দরগুলোর যে তালিকা, সেখানে শীর্ষ এক শ’র মধ্যেও আমাদের শাহজালালের কোনো অস্তিত্ব নেই। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সেরা দশেও আমাদের ঠাঁই হয়নি। অথচ আমাদের প্রতিবেশী ভারতের পাঁচটি বিমানবন্দর বিশ্বসেরা ১০০-তে অবস্থান করছে। আমরা ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করছি, ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ কিনছি; কিন্তু যাত্রীদের সাথে কেমন আচরণ করতে হয়, তাদের মূল্যবান সময়ের দাম কিভাবে দিতে হয়— সেই বেসিক সফট স্কিলস বা মানসিকতার উন্নয়ন আমরা করতে পারিনি। ভবনের সৌন্দর্য আর চাকচিক্য দিয়ে কখনোই যাত্রীসেবার মানদণ্ড বিচার করা যায় না। একটি চকচকে টার্মিনালের ভেতরে যখন একজন প্রথমবার আসা বিদেশী নাগরিক ইংরেজি নির্দেশনার অভাবে বিভ্রান্ত হন, কিংবা একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা লাগেজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে কাঁদেন, তখন দেশের ভাবমর্যাদা ওই কনভেয়ার বেল্টের সাথেই ধুলোয় মিশে যায়।
এই অচলায়তন ভাঙতে হলে, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের নামে যে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করে সম্পূর্ণ বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনাকে একটি একক কর্তৃপক্ষের (সিঙ্গেল আমব্রেলা) অধীনে আনতে হবে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে সার্বিক ক্ষমতা প্রদান করতে হবে এবং ইমিগ্রেশন, কাস্টমস থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং— সবকিছুর চূড়ান্ত জবাবদিহি তার অধীনে থাকা একটি কেন্দ্রীয় ‘যাত্রীসেবা সেলে’র হাতে ন্যস্ত করতে হবে।
প্রযুক্তিগত অটোমেশন বা ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করতে হবে। আইএটিএ (ওঅঞঅ)-এর নিয়ম অনুযায়ী একটি লাগেজ উড়োজাহাজ থেকে নামার পর থেকে যাত্রীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সিসিটিভি এবং ডিজিটাল বারকোড বা আরএফআইডি (জঋওউ) ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনতে হবে। যাত্রীরা যেন নিজ ফোনেই দেখতে পান তার লাগেজটি এখন কোথায় আছে। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক বিলম্ব হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেন দায়ীদের চিহ্নিত করা যায়, সেই সিস্টেম চালু করা এখন সময়ের দাবি।
কোনো যাত্রীর লাগেজ যদি ফ্লাইটের সাথে না আসে বা দেরি হয়, তবে তাকে নিজের খরচে আবার বিমানবন্দরে আসতে বাধ্য করা চরম অন্যায়। এভিয়েশন নিয়মানুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন বা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্সির নিজ খরচে ওই লাগেজ যাত্রীর দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে দিতে হবে। দেরির সাথে আর্থিক জরিমানার বিষয়টি যুক্ত হলে দায়িত্বশীলদের গাফিলতি অনেকটাই কমে আসবে।
বিমানবন্দরে কর্মরত প্রত্যেক কর্মীকে, তিনি কাস্টমস অফিসার হোন বা ট্রলিম্যান, বাধ্যতামূলকভাবে কাস্টমার কেয়ার ও মানবিক আচরণের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। যাত্রীকে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করা, হাসিমুখে কথা বলা এবং সাহায্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। যাত্রীদের অভিযোগ শোনার জন্য বিমানবন্দরে এবং অনলাইনে সহজে প্রবেশযোগ্য একটি ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস ডেস্ক’ স্থাপন করতে হবে। সেখানে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে তা দিনের পর দিন ফেলে না রেখে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে সমাধান দেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিমানবন্দর কারো পৈতৃক সম্পত্তি বা ব্যক্তিগত জমিদারি নয়; এটি রাষ্ট্রের সম্পত্তি এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত একটি জাতীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। কয়েকজনকে বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করে মূল সমস্যা ধামাচাপা দেয়ার পুরনো ও ব্যর্থ কৌশল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে দল-মত ও পদের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধী ও কর্তব্যে অবহেলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবেই একটি আন্তর্জাতিক মানের মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও সেবামুখী বিমানবন্দরে রূপান্তরিত হতে পারে ঢাকা বিমানবন্দর, যেখানে প্রবাসীদের দীর্ঘশ্বাসের বদলে শোনা যাবে পরম স্বস্তির নিঃশ্বাস। 
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট 

Advertisement