বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন. মাহদী হাসান
মাহদী হাসান। ফাইল ছবি

‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’- এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে আলোচনায় আসা হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে বিদেশ যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ইওয়াই-৩৮৩ নম্বর ফ্লাইটে আবুধাবি হয়ে জ‍্যামাইকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তার পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ইমিগ্রেশন সিস্টেমে তার পাসপোর্ট ‘স্টপ-লিস্টেড’ হিসেবে শনাক্ত হলে তাকে ইমিগ্রেশন প্রসিকিউশন অফিসে পাঠানো হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের দায়িত্বে থাকা ইমিগ্রেশন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। তবে মাহদীকে আটক করা হয়নি বলেও জানান তিনি। 

ইমিগ্রেশন পুলিশের নোট অনুযায়ী, মাহদীর বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে করা একটি মামলা রয়েছে। মামলাটি জিআর-১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত। নোটে মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৮৬, ১৮৯ ও ৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাহদীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকার ফলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যে বক্তব্যে আলোচনায় মাহদী
চলতি বছরের জানুয়ারিতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাহদী হাসান আলোচনায় আসেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম।’

ওই সময় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আটকের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে মাহদীসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা-কর্মী শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পুলিশের সাথে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ওই ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর ৩ জানুয়ারি মাহদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানায় গিয়ে পুলিশের কাজে বাধা, হুমকি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন পান তিনি।

তবে মাহদীর দাবি ছিল, থানায় আলোচনার সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত ওই বক্তব্য তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়।

এর আগে চলতি বছরের আগস্টে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মাহদী হাসানকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়। পরে প্রায় ২১ ঘণ্টা পর অভিভাবকদের মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরেও ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে পড়েছিলেন মাহদী। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে সে সময় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।