সেমিতে ইমরানুর, হকি ও বিচ ভলিবলে জয়
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হকি দলের গোল উৎসব।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

Advertisement

হাংঝুর মতো নগোয়া এশিয়ান গেমস ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে উঠেছেন বাংলাদেশের সেরা স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় সিটি মিঝু পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের পঞ্চম হিটে চতুর্থ হয়েছেন বৃটেন প্রবাসী এই অ্যাথলেট। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে দ্বিতীয় বাংলাদেশী অ্যাথলেট হিসেবে ১০০ মিটারের সেমিতে উঠলেন তিনি। এর আগে ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে আজহারুল ইসলাম সেমিতে পৌঁছেছিলেন।
১০০ মিটার স্প্রিন্টে অনুষ্ঠিত হয় মোট ছয়টি হিট। বাংলাদেশের ইমরানুর ছিলেন পঞ্চম হিটে। তার সাথে একই হিটে দৌড়েছেন মালদ্বীপের হাসান সাঈদ, সিঙ্গাপুরের লুইস এমবি, মালয়েশিয়ার মোহদ এম, চাইনিজ তাইপের ইয়াং সি ও ম্যাকাওয়ের লিওং লি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হিটের প্রথম তিনজন সরাসরি সেমিফাইনালে ওঠেন। তাদের বাইরে ছয় হিট মিলিয়ে সেরা ছয় টাইমিংধারীও পান পরবর্তী পর্বের টিকিট। ইমরানুর নিজের হিটে চতুর্থ হলেও সময়ের বিচারে সেরা অতিরিক্ত ছয় প্রতিযোগীর একজন হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন।
তবে বাছাইপর্বে নিজের প্রত্যাশিত সময়ের ধারেকাছেও যেতে পারেননি বাংলাদেশের এই স্প্রিন্টার। ইমরানুরের ব্যক্তিগত সেরা সময় ১০.১১ সেকেন্ড। চলতি মৌসুমে তার সেরা সময় ১০.২৬ সেকেন্ড। এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে ১০.৪৯ সেকেন্ড দৌড়েছেন তিনি। হাংঝু এশিয়ান গেমসে ১০.৪৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন।
ইমরানুরের একই হিটে ব্যক্তিগত সেরা সময়ের হিসাবে এগিয়ে ছিলেন মালয়েশিয়ার মোহদ এম। তার ব্যক্তিগত সেরা ১০.০৯ সেকেন্ড। চাইনিজ তাইপের ইয়াং সি ও ইমরানুর, দু’জনেরই ব্যক্তিগত সেরা ১০.১১ সেকেন্ড। ফলে কাগজে-কলমে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই ছিলেন বাংলাদেশের স্প্রিন্টার। বাছাইপর্ব পেরিয়ে এখন ইমরানুরের সামনে আরো বড় পরীা। নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারলে লড়াইটা আরো জমিয়ে তুলতে পারবেন তিনি। তার ল্যও শুধু পরের ধাপে ওঠা নয়, নিজের ১০.১১ সেকেন্ডের ব্যক্তিগত সেরাকে ছাড়িয়ে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়া।
এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে সেই ল্য পূরণ করতে হলে বাছাইপর্বের তুলনায় অনেক দ্রুত দৌড়াতে হবে বাংলাদেশের দ্রুততম মানবকে। সেমিফাইনালেই তাই নিজের সেরাটায় ফেরার চ্যালেঞ্জ ইমরানুরের।  আজ সন্ধায় হবে  সেমিফাইনাল।
শঙ্কা পেরিয়ে লঙ্কার জালে ৮ গোল
শুরুটা ছিল হতাশার, প্রতিপও ছিল কিছুটা অস্বস্তির স্মৃতি জাগানো। কিন্তু মাঠের খেলায় সেসবের কোনো ছাপ রাখতে দিলো না বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে টানা দুই ম্যাচ হারের পর শ্রীলঙ্কার বিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৫-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের পুরুষ হকি দল।
এই জয় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন শ্রীলঙ্কার বিপে ম্যাচ ঘিরে বাড়তি সতর্কতা ছিল বাংলাদেশের। একসময় বড় ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারানো বাংলাদেশ কয়েক মাস আগেই এএইচএফ কাপে তাদের কাছে হেরেছিল। তার ওপর এশিয়ান গেমসের প্রথম দুই ম্যাচে দণি কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারায় সেই শঙ্কা আরো বাড়ে। তবে এবার সেই অতীতের পুনরাবৃত্তি হতে দেয়নি বাংলাদেশ।
তিন ম্যাচ শেষে এক জয় ও ৩ পয়েন্ট নিয়ে পুল ‘এ’-তে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। সামনে অপো করছে আরো কঠিন পরীা। ২৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বিপে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিপ ভারত!
গতকাল পুল ‘এ’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার ওপর চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ। ৮ মিনিটেই আমিরুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় লাল-সবুজের দল। প্রথম কোয়ার্টারের সেই এক গোলের লিড দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আরো বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। ১৬ মিনিটে আশরাফুল ইসলামের গোলে স্কোরলাইন হয় ২-০।
এরপর অবশ্য ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফেরায় শ্রীলঙ্কা। ১৮ মিনিটে কুশল ভিরাপ্পোলির গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে তারা। কিন্তু এই গোল বাংলাদেশের ছন্দে কোনো বড় ধাক্কা দিতে পারেনি। বরং এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ।
২৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আমিরুল ইসলাম বাংলাদেশকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষদিকে ৪৩ মিনিটে মাহবুব হোসেইনের গোলে ব্যবধান আরো বাড়ে। শেষ কোয়ার্টারেও শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আশরাফুল ইসলাম। তাতেই বাংলাদেশের জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়।
পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার কতটা ছিল, তার প্রমাণ মিলেছে পেনাল্টি কর্নার আদায়ের সংখ্যায়। ১৫টির বেশি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে শ্রীলঙ্কার রণকে বারবার পরীায় ফেলেছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৫-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রোমান সরকারের দল!
বিচ ভলিবলে প্রথম জয়
জাপানের আইচি-নাগোয়ায় চলমান ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ বিচ ভলিবল দল জয় পেয়েছে। পুল ‘এইচ’-এর ম্যাচে মালদ্বীপকে ২-১ সেটে হারিয়েছে বাংলাদেশের রাকেশ ও রাতুল জুটি। মালদ্বীপের নাসিম আদম ও সাজিদ ইসমাইলের বিপে প্রথম সেটে ১৩-২১ পয়েন্টে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে পরের দুই সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২১-১৯ ও ১৭-১৫ পয়েন্টে জয় নিশ্চিত করে রাকেশ-রাতুল জুটি। এর আগে পুল ‘এইচ’-এ নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জাপান ও ইরানের কাছে ০-২ সেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। জাপানের বিপে ১১-২১, ১৫-২১ এবং ইরানের বিপে ১৩-২১, ১২-২১ পয়েন্টে পরাজিত হয় তারা।