
আল মায়াদিন
ইয়েমেনের সাথে চলমান সামরিক সঙ্ঘাত অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের তেল রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলী মারান্দি। তার মতে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে রিয়াদকে মারাত্মক অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে হবে। সম্প্রতি আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড অব : ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মারান্দি বলেন, সৌদি আরব ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে বহু কিছু খুইয়েছে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি যুক্তি দেখান যে, ইরান কিংবা অন্যান্য দেশের মতো সৌদি অর্থনীতি বহুমুখী বা বৈচিত্র্যময় নয়; বরং এটি প্রায় পুরোপুরি এককভাবে তেল খাতের ওপর নির্ভরশীল। এর বিপরীতে, ইয়েমেনের হাউছি বাহিনীর সামনে হামলার জন্য কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ বহু লক্ষ্যবস্তু উন্মুক্ত রয়েছে। তার দাবি, ইয়েমেন অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওয়াকিবহাল ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, হাউছিদের আরো ব্যাপক ও শক্তিশালী হামলা চালানোর সামর্থ্য রয়েছে। তবে ইয়েমেনের লক্ষ্য সৌদি আরবকে ধ্বংস করা নয়, বরং দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে উপলব্ধি করিয়ে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করা। মারান্দি সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি পাল্টা আক্রমণ বাড়ায়, তবে ইয়েমেনও তাদের আগ্রাসন আরো তীব্র করবে, যার ফলে সৌদি তেল রফতানি পুরোপুরি থমকে যেতে পারে।
এই ইরানি বিশ্লেষকের মতে, এমন চরম সঙ্কট তৈরি হলে সৌদি শাসকগোষ্ঠীকে অভ্যন্তরীণ তীব্র অসন্তোষ ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির জমা রাখা সম্পদ, ট্রেজারি বন্ড এবং পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তিনি আরো দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই বর্তমানে গুরুতর বন্ডবাজার সঙ্কটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এমন ভঙ্গুর অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোকে মার্কিন ভূখণ্ড থেকে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বা পুঁজি তুলে নেয়ার সুযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেবেন কি না- তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। তার মতে, ওয়াশিংটন খুব সহজে সেই অর্থ ফিরিয়ে নেয়ার পথ উন্মুক্ত করবে না।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








