
লন্ডন, বার্লিন, ডাবলিন ও রোমসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরের রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার জবাবে গাজায় ইসরাইলি বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার তিন বছর পূর্তিতে শনিবার আয়োজিত এসব বিক্ষোভে গাজায় ইসরাইলি হামলা বন্ধ ও দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অবরোধ আরোপের দাবি জানানো হয়।
আল জাজিরা রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) জানায়, লন্ডনে ফিলিস্তিন সংহতি অভিযানের (পিএসসি) উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছের সড়কে 'গণহত্যা বন্ধ করো' ও 'ফিলিস্তিন স্বাধীন করো' লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন তারা। আয়োজকরা জানান, গাজায় চলমান গণহত্যা তিন বছরে পদার্পণ করায় বিশ্ববাসীকে সোচ্চার করতে তারা রাস্তায় নেমেছেন। একই সাথে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের পদক্ষেপকে অপ্রতুল উল্লেখ করে ইসরাইলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অবেরাধের দাবি জানান তারা।
এক বছর আগে কথিত যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরাইল তাদের হামলার মাত্রা কিছুটা কমিয়েছে মাত্র, প্রায় প্রতিদিনই গাজায় আঘাত হানছে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১,৪৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বিক্ষোভ থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন'-এর সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে এক পুরুষ ও এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে 'স্টপ দ্য হেট ইউকে' নামে একটি ইহুদিভিত্তিক ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠী সেখানে একটি ছোট পাল্টা বিক্ষোভের আয়োজন করে।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে 'ইউনাইটেড ফর ফিলিস্তিন' জোটের ডাকে প্রায় ৩,৫০০ মানুষ চ্যান্সেলরি ও পার্লামেন্টের মধ্যবর্তী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলে জার্মানির অস্ত্র রপ্তানির তীব্র সমালোচনা করে সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপীয় ইহুদিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলকে দৃঢ় সমর্থন দিয়ে আসছে বার্লিন, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা।
এছাড়া আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে 'আইরিশ ফিলিস্তিন সংহতি অভিযান'-এর আহ্বানে এবং ইতালির রোমেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে নামেন। রোমের বিক্ষোভে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি অস্ত্র ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলা হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলায় ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে পণবন্দি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরাইল গাজায় যে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৪,২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের মুখে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী ইসরাইলের পদক্ষেপকে 'গণহত্যা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যদিও তেল আবিব এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








