অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ
ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় বা অবস্থান নয়, বরং ন্যায়নীতি ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণকে প্রাধান্য দিতে হবে।’ 

Advertisement

এসময় তিনি বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতে হজরত আলী রা:-এর বর্ম হারানো এবং তা নিয়ে বিচারসংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ময়মনসিংহ মহানগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ‘অন্যায়, অসত্য ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে লড়াই করার শিক্ষা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। এ আন্দোলনের মূল শক্তি ঈমান, তাকওয়া ও নৈতিক দৃঢ়তা। ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, হিংসা, বিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরতে হবে।’

জেলা জামায়াতের আমির মো: আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. ছামিউল হক ফারুকী। এছাড়া জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল, বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা এবং রুকনরা উপস্থিত ছিলেন।

মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন কর্মীদের ঈমানি শক্তি ও দৃঢ়তা অর্জনের শিক্ষা দিয়েছে। এ শক্তিই মানুষকে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার সাহস জোগায়।’ 

তার ভাষায়, ‘আন্দোলনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে ঈমান ও তাকওয়া। ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং নৈতিক দৃঢ়তা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই কর্মীদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাকওয়ার ভিত্তিতে পরিবার, সমাজ, আচরণব্যবস্থা, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামী সংগঠন থেকে তাকওয়া হারিয়ে গেলে তার আদর্শিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।’

তাবুক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাহাবিরা ঈমানি শক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরও সঙ্কট ও প্রতিকূলতার মুখে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কোনো অবস্থাতেই তাকওয়ার সাথে আপস করা যাবে না।’

নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রসঙ্গে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের দায়িত্ব ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। কেউ নিজেকে কোনো পদের যোগ্য মনে করলেই তিনি যে সেই দায়িত্বের উপযুক্ত হবেন, তা নয়। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক নীতিমালাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দায়িত্ব পরিবর্তন হওয়া সাংগঠনিক প্রক্রিয়ারই অংশ। কে কোন পদে থাকলেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার করাই প্রধান দায়িত্ব।’

ভোটকেন্দ্রভিত্তিক দাওয়াতি কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক থানায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সাংগঠনিক তৎপরতা চালাতে হবে। মানুষের কাছে কোরআন, ইসলামের আদর্শ ও দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। কাউকে জোর করে দাওয়াতি কাজে সম্পৃক্ত করা যাবে না; বরং মানুষের মনোজগতে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পবিত্র কোরআন ইসলামের অন্যতম প্রধান আদর্শিক শক্তি। তা সত্ত্বেও মানুষকে আকৃষ্ট করতে না পারার পেছনে নিজেদের দুর্বলতা রয়েছে। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ, ঈর্ষা, হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। অন্যকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মানসিকতা থাকতে হবে।’

সম্মেলনে তিনি নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা, তাকওয়া ও আদর্শভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।