
দেশে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে সিলেটের জৈন্তাপুরের ঢুপিটিলা-১ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাসটিলা-৯ অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেয় পেট্রোবাংলা। জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কূপ খনন করা যায়নি।
এখন নতুন করে এ প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিএফএল)। যদিও কাগজে-কলমে প্রকল্পের ১৬ শতাংশ কাজের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি। এ দুটি কূপ খনন করা গেলে ১০ বছরে মোট ৫৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা জানিয়েছিল পেট্রোবাংলার সাবসিডিয়ারি এসজিএফএল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঢুপিটিলা-১ কূপের ৭৮৩ মিটার সংযোগ সড়কের মধ্যে মাত্র ২৩২ মিটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট সেতুও রয়েছে। অবশিষ্ট ৫৫১ মিটারে সেতু ও কালভার্টের কাজ চলমান। এছাড়া কূপের জন্য সাইটে বালি ভরাট করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে এসজিএফএলের আওতায় ৫৬ বিসিএফ গ্যাস মজুদের সম্ভাবনাময় ঢুপিটিলা-১ ও কৈলাসটিলা-৯ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর। দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মেয়াদ গত মাসে (সেপ্টেম্বর) শেষ হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য যে ভূমি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করা যায়নি। মূলত জমি অধিগ্রহণে স্থানীয়দের বাধা, সংযোগ সড়ক নির্মাণে ধীরগতিসহ নানা কারণে প্রকল্পে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢুপিটিলা-১ ও কৈলাসটিলা-৯ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পে ৬৪৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ব্যয় ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ১৬ শতাংশ। প্রকল্পটি অনুমোদন করা হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে অগ্রগতি নেই বলে প্রকল্পের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দুটি কূপের ভূমি পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বরের প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় মেয়াদ বৃদ্ধিসহ ভূমি হুকুম দখলের পরিবর্তে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কূপ সাইটে পূর্তকাজ শুরু হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের আগে পূর্তকাজ শুরু করায় আপত্তি জানিয়েছে আইএমইডি।
এ বিষয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভূমি হুকুম দখলের সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে এসে এসজিএফএল জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ করছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঢুপিটিলা-১ কূপের ৭৮৩ মিটার সংযোগ সড়কের মধ্যে মাত্র ২৩২ মিটার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট সেতুও রয়েছে। অবশিষ্ট ৫৫১ মিটারে সেতু ও কালভার্টের কাজ চলমান। এছাড়া কূপের জন্য সাইটে বালি ভরাট করা হচ্ছে। কৈলাসটিলা-৯ কূপে ভূমি উন্নয়ন করা হয়নি। কোনো বাস্তব অগ্রগতিও দেখা যায়নি।
ঢুপিটিলা-১ ও কৈলাসটিলা-৯ নম্বর কূপ খনন প্রকল্পে সরকারের অর্থায়ন প্রায় ৪১৪ কোটি ৭৮ লাখ ও এসজিএফএলের নিজস্ব অর্থ ২৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ঢুপিটিলা কাঠামোয় প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ মিটার ও কৈলাশটিলায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় অনুসন্ধান চালানো হবে।
নতুন কূপ খননে গ্যাস পাওয়া গেলে কূপ দুটি থেকে প্রথম পাঁচ বছরে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট হারে অর্থাৎ ১০ বছরে মোট ৫৬ বিসিএফ গ্যাস উৎপাদন করা যাবে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় গ্যাস পাওয়া গেলে গ্যাদারিং পাইপলাইন নির্মাণ, নিরাপত্তা স্থাপনা, ড্রেন, সীমানাপ্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধান কূপ খননের পূর্বশর্ত ভূমি ও সংযোগ অবকাঠামোর কাজই পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় মূল খনন শুরু করতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর বাড়াতে গত ৯ সেপ্টেম্বর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় এসজিএফএল। নানা যাচাই-বাছাই শেষে গত মঙ্গলবার পিইসি সভায় উঠে প্রকল্পটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প ও শক্তি বিভাগের তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ উইংয়ের যুগ্ম প্রধান মো: নজরুল ইসলাম বুধবার (১৪ অক্টোবর) বলেন, ‘কূপ দুটির বিষয়ে পুনরায় ডিপিপি এসেছে। সেটি নিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পিইসি বৈঠক হবে। যদি সময় বাড়াতে ও ব্যয় পর্যালোচনা করতে হয়, তাহলে হয়তো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাঠাতে হতে পারে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








