
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার-২ আসনের (কুলাউড়া) সাবেক এমপি, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান সুলতান মনসুর। তবে জামিনের পর নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সুলতান মনসুর।
তিনি বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর গত তিন দিনে তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় তাকে কেন জড়ানো হচ্ছে, তা বুঝতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
সুলতান মনসুর বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকায় পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে এবং তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও আদালতকে জানান।
১৯৬৮ সালে রাজনীতি শুরু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় তিনি পরিবারসহ দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বক্তব্য, এরপর থেকে একের পর এক মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
সুলতান মনসুর ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন।
বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও এক সময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে গণফোরামে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মুশফিকুর রহমান আবিরের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাকে অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটে।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ মামলার এজাহারভিত্তিক। আদালতে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








