
নড়াইলের লোহাগড়ায় দাফনের প্রায় ছয় মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে কৃষক মফিজার মোল্যার লাশ। স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও বেয়াই মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের অনুমতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ঈশানগাতী কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কুমারেশ কুমার বিশ্বাসসহ পুলিশের উপস্থিতিতে লাশটি তোলা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
লাশ উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে কবরস্থান এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। দীর্ঘদিন আগে দাফন করা একজন কৃষকের লাশ এভাবে কবর থেকে তোলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল রাতে মফিজার মোল্যাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও বেয়াই মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার কয়েক দিন পর ফাতেমা ও মশিয়ার বিয়ে করে একসাথে সংসার শুরু করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ২৯ আগস্ট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেয়া হয়।
ওই দিন রাতেই নিহত মফিজার মোল্যার মেয়ে মনিকা বেগম লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তার মা ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানের নাম উল্লেখ করে আরো দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।
মামলার বাদি মনিকা বেগমের অভিযোগ, তার মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
তৎকালীন সময়ে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া বক্তব্যে ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমান মফিজার মোল্যাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও জানা যায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা এ ঘটনা ঘটান। ফাতেমা বেগমের দাবি ছিল, তিনি স্বামীর সাথে সংসার করতে চাননি। এ কারণে মশিয়ার রহমানকে সাথে নিয়ে তাকে হত্যা করেন। তবে পরে তারা মফিজারের স্বাভাবিক মৃত্যুর দাবি করেন এবং পরদিন সকালে তার লাশ দাফন করা হয় বলে জানান।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। পরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার বিষয়টি সামনে আসে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পুনরায় দাফন করা হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মফিজার মোল্যার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








