পাউবোর জমি
উজিরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাউবোর জমি দখলের অভিযোগ। নয়া দিগন্ত

কাঠের দোকানঘরটি আর নেই। সেখানে এখন উঠছে পাকা বহুতল ভবন। জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। 

Advertisement

তাদের অভিযোগ, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে পাউবোর ওই জায়গা দখল করে ভবনটি নির্মাণ করছেন হারতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হরেন রায়। তবে তার ছেলে বরুণ রায়ের দাবি, তারা জায়গাটি কিনেছেন। সরকারি সম্পত্তি কীভাবে কেনা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে হারতা বাজারের ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও এখানে কাঠের দোকানঘর ছিল। ধীরে ধীরে সেই স্থাপনার পরিবর্তে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, জায়গাটি পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমির অন্তর্ভুক্ত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হারতা বাজারের এই একটি জায়গাতেই নয়, জামবাড়ি থেকে স্লুইসগেট পর্যন্ত পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমির বিভিন্ন অংশে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কোথাও দোকান, কোথাও টিনের ঘর, আবার কোথাও পাকা ভবন। বাজারের পাশে খালের অংশও মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করার অভিযোগ রয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮৬ সালে হারতা মৌজায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৮৮ সালে ওই জমিতে মাটি ফেলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ এ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পাউবোর জমির পাশাপাশি হারতা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে সন্ধ্যা নদীর শাখা খালের কিছু অংশও দখল হয়েছে। মাটি-বালু ফেলে খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হচ্ছে। কমছে বাজারসংলগ্ন জলাধারের জায়গাও।

সাবেক চেয়ারম্যান হরেন রায়ের বিরুদ্ধে পাউবোর জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে তার ছেলে বরুণ রায় বলেন, আমরাই সম্পত্তি কিনেছি। সরকারি সম্পত্তি কীভাবে কেনা হয়েছে এবং এর বৈধ কাগজপত্র আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

একই এলাকায় পাউবোর জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইতালিপ্রবাসী ও সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আজিজুল সরদারের বিরুদ্ধেও। তার স্বজন আসাদ সরদারের দাবি, আজিজুল ২৭ শতাংশ জমি ৩৮ লাখ টাকায় কিনেছেন। তবে পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমি কীভাবে কেনাবেচা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনিও ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। আজিজুল সরদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন বলেন, ‘আমি উপজেলায় নতুন এসেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। সরকারি জমিতে অবৈধ দখল বা স্থাপনা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। শিগগিরই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’

সরকারি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে কাঠের দোকানঘরের জায়গায় পাকা বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠলেও ওই জমির মালিকানা ও দখলের বৈধতা কী—তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জমির সীমানা নির্ধারণ, মালিকানা যাচাই এবং দখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।