খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যার নেপথ্যে ‘ভর্তি জালিয়াতি’

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ইসলামনগর মসজিদগলি এলাকায় চুয়াডাঙ্গার সন্তান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুলকে পিটিয়ে হত্যার নেপথ্যে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শুরুতে মোবাইল চুরি ও মেসে না বলে ভাত খাওয়ার অভিযোগে গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে ‘ভুয়া ভর্তি’ ও প্রতারণার ঘটনা ঢাকতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এইচএসসি পাসের পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এক মেসে ওঠেন আজমুল। সেখানে মেস ম্যানেজার মেহেদীর সাথে তার পরিচয় হয়। মেহেদী চার বছর পর খুবির জাল সনদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আজমুলের সাথে এক লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তি করে। আজমুলও পরিবারকে জানায়, সে খুবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ছেলের কথায় বিশ্বাস করে তার বাবা কুতুব উদ্দীন ভর্তির টাকা মেটান।
তবে সম্প্রতি পরিবার জানতে পারে, আজমুল আদতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিই হননি। পরিবারের চাপে সত্য স্বীকার করে আজমুল বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং গত ১০ সেপ্টেম্বর তাকে খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করানো হয়। আজমুল অন্য জায়গায় ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে প্রতারণার বাকি টাকা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় পড়ে মেস ম্যানেজার মেহেদী।
ভুক্তভোগীর বাবার ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার বাড়িতে থাকা আজমুলকে ফোন করে মেহেদী আরো ৫৮ হাজার টাকা দাবি করে এবং দ্রুত খুলনায় ডেকে পাঠায়। মেহেদী তাকে খুবির একটি ভুয়া আইডি কার্ডও বানিয়ে দিয়েছিল, যা পুলিশ জব্দ করেছে। কুতুব উদ্দীনের অভিযোগ, জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ার ভয় থেকেই মেহেদী তার ছেলেকে ডেকে এনে হত্যা করিয়েছে। এমনকি নির্মম নির্যাতনের সময়ও আজমুলের ফোন থেকে কল করে বাবার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় খুলনা নগরীর হরিণটানা থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কুতুব উদ্দীন। আসামিরা হলেন- খুবির সাবেক শিক্ষার্থী রবিন, মবিন, সাগর ও বর্তমান শিক্ষার্থী ওবায়দুল। তবে মূল চক্রান্তকারী মেস ম্যানেজার মেহেদীর নাম প্রাথমিক এজাহারে না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। কুতুব উদ্দীন বলেন, শোকের মধ্যে বিষয়গুলো জানা ছিল না। পরে ছোট ছেলের মাধ্যমে জানতে পারি। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে মারা হয়েছে, আমি বিচার চাই।