
বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যায়লের সামনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ২টার দিকে জানাজাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জানাজায় অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নয়াপল্টনে জানাজায় অংশ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, অত্যাচার ও নিপীড়নের ফলে মৃত্যু। নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের আন্দোলনের সময় তাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়। কারাগারে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তাকে জামিন দিয়ে উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশের যতটুকু সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরিবেশ বেশি দিন ভোগ করতে পারলেন না আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি কয়েকটি দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। একজন রাজনীতিবিদ তার রাজনৈতিক জীবনে যে দৃষ্টান্তগুলো রেখে যান, তার মধ্যে রয়েছে একাগ্রতা, দলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং দলের কর্মসূচির প্রতি আনুগত্য।
রিজভী বলেন, নানা নিপীড়ন-নির্যাতনের পরও তিনি দলের প্রতি তার আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হননি। এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ, যে দৃষ্টান্ত অনেকেই স্থাপন করতে পারেননি। অনেক জাতীয় নেতাও বিভিন্ন সময়ে তাদের আদর্শ ও অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। কিন্তু শত নির্যাতনের পরও সালাহউদ্দিন আহমেদ তার আদর্শ ও নীতি থেকে বিচ্যুত হননি।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচবি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, সাহস, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী করেছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ হয়তো শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে থাকবেন না। আমরা তাকে আর কাছে পাব না। কিন্তু ঢাকা মহানগর বিএনপির প্রতিটি কর্মকাণ্ডে, প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি লড়াই ও সংগ্রামে সাহসের বাতিঘর হয়ে আমাদের প্রিয় সালাহউদ্দিন আহমেদ আজীবন বেঁচে থাকবেন। আমরা কোনোদিনই তাকে ভুলতে পারব না। আমাদের স্লোগানে, আমাদের মিছিলে সালাহউদ্দিন ভাই আজীবন জীবন্ত হয়ে আমাদের মাঝে থাকবেন।
জানাজায় অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যু্গ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, হাবীব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীনসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী।
বিএনপি ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তার তৃতীয় জানাজা বিকেল ৩টায় শ্যামপুর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে জুরাইন গোরস্তানে তার বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








