ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ
আলোকস্বল্পতায় আজ আগেভাগেই শেষ হয় দিনের খেলা। ক্রিকইনফো

প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও মিরপুর টেস্টে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আলোকস্বল্পতা। বৃষ্টি ও আলোর সমস্যায় কয়েক দফা বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হলেও বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারেননি ক্রিকেটাররা। ১৮ ওভার হাতে রেখেই শেষ হয় দ্বিতীয় দিন।

Advertisement

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা বাংলাদেশের অনুকূলে যায়নি। দিনের শুরুতে ভয়াবহ ব্যাটিং ধসে ২৭২ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। যদিও স্বস্তি নিয়ে দিন শেষ করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজও, ১৩৪ রানে হারিয়েছে ৪ উইকেট। 

বৃহস্পতিবার সকাল সকাল বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাট হাতেও বেশ ভালো শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১ উইকেট ৯০ রান তুলে ফেলে ক্যারিবীয়রা। জমে ওঠে জন ক্যাম্পবল ও ত্যাগনারায়নের দ্বিতীয় উইকেট জুটি। 

তবে শেষ সেশনে এসে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ। জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বারবার জীবন পাওয়া ক্যারিবীয় ওপেনার ৭৮ বলে ৫৪ করে আউট হন। ভাঙে ৬১ রানের জুটি।

আরো পড়ুন—গাজার শিশুদের জন্য মোটা অঙ্কের অনুদান সংগ্রহ হামজা চৌধুরীর, কত টাকা?

এরপর জোড়া আঘাত হানে তাইজুল ইসলাম। কেভাম হজ (৭) ও আমির জ্যাঙ্গোকে (০) ফিরিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেন তিনি। ৯৭ রানে ৪ উইকেট হারায় তারা। এর আগে ইনিংসের প্রথম উইকেট পেয়েছিলেন হাসান মাহমুদ, ফেরান ব্রেন্ডন কিংকে (১৫)।

শুরুর ধাক্কা সামলে শেষ সেশনের এই তিন উইকেট বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছে। যদিও গলার কাঁটা হয়ে চন্দরপল এখনো মাঠে আছেন, ১৪৫ বলে ৪৩ রান নিয়ে তিনি তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবেন। সাথে আছেন জাস্টিন গ্রেভস (১৫)।

এর আগে দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য ছিল হতাশার। ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ সাত উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। সাদমান ইসলাম অবশ্য সেঞ্চুরি তুলে নেন।

প্রথম দিন শেষে শতক থেকে মাত্র এক রান দূরে ছিলেন সাদমান, ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। দ্বিতীয় দিনে তাই সবার নজর ছিল সাদমানের দিকে। অপেক্ষা ছিল তার সেঞ্চুরির। নতুন দিনে সেই অপেক্ষা বাড়াননি তিনি।

দিনের দ্বিতীয় বলেই পৌঁছেছেন মাইলফলকে। ২২১ বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। টেস্টে এটি সাদমানের তৃতীয় সেঞ্চুরি। দেড় বছর পর টেস্টে সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের এই ওপেনার।

এরপর রান আরো বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ ছিল সাদমানের সামনে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না সাদমান। সেঞ্চুরি উদযাপন শেষ হতেই ফিরতে হয় তাকে। ২৩৪ বলে ১০৫ রান করে জশুয়া বিশপের শিকার হন।

সাদমান আউট হলে মাঠে আসেন তাওহীদ হৃদয়। আগের দিন চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে ৪২ রান নিয়ে মাঠ ছাড়া হৃদয় এদিন থিতুই হতে পারেননি। আর কোনো রান যোগ করার আগেই তিনিও শিকার হন বিশপের।

২২১ রানে জোড়া উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে যা দলের জন্য বড় ধাক্কা। সেই ধাক্কা আর সামলে ওঠা যায়নি, উল্টো ইনিংসে নেমে আসে ভয়াবহ ধস। ধসের কারণ, স্পিনার জোমেল ওয়ারিক‍্যান। একাই ৫ উইকেট নেন তিনি।

এক প্রান্তে লিটন দাস দাঁড়িয়ে থাকলেও অন্য প্রান্তে চলেছে আসা-যাওয়ার মিছিল। ৮৮ বলে ৪ চারে ৩৪ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি। মেহেদী মিরাজ কেবল বলার মতো রান পান, ৩৯ বলে করেন ১৫। বাকিরা কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।

শেষ ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ২৭২ রানে। অথচ প্রথম ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান করার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরেই থামতে হয় স্বাগতিকদের।