ইরান,বাণিজ্য করিডর, ইসলামাবাদ, পাকিস্তান, নিরাপত্তা, চোরাচালান
পাঞ্জগুরে পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত ক্রসিং। দ্য ডন

ইরানের সাথে নিজেদের অন্যতম প্রধান সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। আপাতত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশটির অফিসিয়াল গাবদ-রিমেদান ও তাফতান সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের পণ্য পরিবহন।

Advertisement

উপমহাদেশের অন্যতম পুরনো পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন রোববার (১৮ অক্টোবর) জানায়, পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার এক স্মারকে তাদের পূর্বের আদেশ বাতিল করে অবিলম্বে সীমান্ত পথগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়।

সীমান্তের নিরাপত্তাহীনতা রোখা ও চোরাচালান বন্ধে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা শাহিদ রিন্দ। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া বার্তায় তিনি সীমান্ত বন্ধ ঘিরে তৈরি হওয়া গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, সীমান্ত ব্যবস্থার প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সুরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে। খুব শিগগিরই সীমান্ত আবার খুলে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

একই সময়ে সীমান্ত বন্ধকে সাময়িক আখ্যা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই কারিগরি সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সমস্যা সমাধান করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ বাণিজ্য স্থগিতের পর পাকিস্তানের কোয়েটা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন কোনো আমাদানি-রপ্তানি অর্ডার না দিতে অনুরোধ করেছে। সিদ্ধান্ত আসার পর থেকেই এলপিজি, চাল ও ফলবোঝাই শত শত পণ্যবাহী যান সীমান্তের দুই পাশে আটকে রয়েছে। তবে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গাবদ-রিমেদান সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দিনে চার হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানি করত পাকিস্তান। এই পথ বন্ধ থাকায় করাচিসহ দেশের বিভিন্ন অংশে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে খোলা বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাস ধরে এই সীমান্ত দিয়ে চাল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছিল পাকিস্তান। চলমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে এই বাণিজ্যিক পথ বন্ধ হওয়ায় রাজস্ব হানির পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনীতিই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

এর আগে গত আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠকে ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত খোলা রেখে বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে বেলুচিস্তানের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য বন্ধের পথেই হাঁটল ইসলামাবাদ।