
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নতুন স্বৈরাচারের জন্য মানুষ জীবন দেয়নি। নতুন স্বৈরাচারের পথে হাঁটা সরকার আমাদের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর দ্বিতীয় কর্মসূচী দেখে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছে। সরকার গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেয়া ৭০ শতাংশ মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে রায় বাস্তবায়ন না করে।’
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা নির্বাচনের আগে বলেছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তারা এখন জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন করছেন না। কেন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করছেন না। বিএনপি জাতির সাথে প্রতারণা করছেন।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সকাল ১০টায় পথসভা শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘সকল প্রকার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।’
আগামীতে ঢাকার লংমার্চের যোগ দেয়ার জন্য জনতাকে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘জনগণ যখন রাস্তায় নেমেছে, দাবি আদায় হবেই।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচার বসেছে। সামনে আমাদের কঠিন লড়াই। গত সাতমাসে পদে পদে দলীয়করণ করা হয়েছে। কথা ছিল দুর্নীতিমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত হবে বাংলাদেশ। কিন্তু কর্মসংস্থান হচ্ছে শুধু ছাত্রদল ও যুবদলের। আমরা এমন বাংলাদেশ হতে দেবো না।’
এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমরা নিজস্ব লাভের জন্য আসিনি। আমরা চাই সরকার জনগণের কাছে যে ওয়াদা দিচ্ছে, তা পূরণ করুক। সরকারকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের মতো যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, এভাবে দেশ চলতে পারে না।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ প্রমাণ করেছে জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছে। সরকার জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে— যে ভাষায় কথা বুঝতে সে ভাষায় কথা বলা হবে।’
অধিকার আদায়ের ডাক আসলে সাড়া দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে লাখ লাখ জনতার ভালোবাসা নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের জনপদে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে চলবে। যতদিন আমাদের দাবি আদায় না হয় ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।’
টাঙ্গাইলের পথসভায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা।







