বাংলাদেশ নারী দল, চীন, এশিয়ান গেমস
বাংলাদেশ নিারী ক্রিকেট দল ইন্টারনেট

এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই অদ্ভুত এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশকে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজেরাই মাঠে আসেনি চীন।

মূলত চীনের অনুরোধেই শনিবার সকালে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। এমনকি নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ দল মাঠে পৌঁছায়ও তারা। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর দেখা মেলেনি চীনের নারী ক্রিকেট দলের।

বাংলাদেশ নারী দলের ম্যানেজার ফাইয়াজ আহমেদ জানান, সকাল ৯টার ম্যাচের জন্য তারা সাড়ে ৭টার দিকে মাঠে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে কিউরেটরের কাছ থেকে প্রথমে জানতে পারেন, ম্যাচটি হবে না। পরে নিশ্চিত হন, চীন দল মাঠে আসছে না।

ফাইয়াজ বলেন, ‘৯টার ম্যাচের জন্য আমরা সাড়ে ৭টায় মাঠে আসি। এসে শুনি কিউরেটর বলছে- খেলা হবে না। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি চীন আসবে না। চীন না আসায় আগামীকাল সেমিফাইনালের জন্য আমরা প্র্যাকটিস করছি।’

চীনের আগ্রহেই মূলত এই প্রীতি ম্যাচের আয়োজন হয়েছিল বলে জানান বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদ। তার ভাষ্য, অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া ওসিএ বাংলাদেশকে চীনের সাথে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার অনুরোধ করেছিল।

বিসিবির সাথে যোগাযোগের পর বাংলাদেশ দল ম্যাচ খেলতে রাজি হয়। কিন্তু সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরও চীন মাঠে না আসায় বিষয়টি ওসিএ-কে জানানো হয়েছে।

ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘ওসিএ আমাদের অনুরোধ করেছিল তাদের সাথে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে। বিসিবির সাথে আমরা যোগাযোগ করে ম্যাচ খেলতে রাজি হই। সব কিছু সম্পন্ন করে এখন তারা আসেনি, এটি আমি ওসিএকে জানিয়েছি।’

চীনের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কেন তারা শেষ মুহূর্তে ম্যাচে আসেনি, সে বিষয়ে নিজের একটি ধারণা দিয়েছেন বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন।

তার মতে, চীন হয়তো আবারো আনুষ্ঠানিক ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। বাংলাদেশ তাতে রাজি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে।

এর আগে, এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ ও চীনের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। 

পরে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে যায়। এরপর দুই দলের মাঝে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু সেই ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত মাঠে দেখা গেল না চীনকে।